কোচবিহার ও দিনহাটা: এসআইআর নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে জেলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি এসআইআর নিয়ে সাবেক ছিটমহলের ভোটারদের সমস্যার সমাধানের কথাও তারা তুলে ধরে। ২০০২ সালের আসল ভোটার তালিকা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। এছাড়াও ফোন নম্বর সহ বিএলওদের তালিকা দেওয়ার কথাও প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, ফরওয়ার্ড ব্লক, কংগ্রেস সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলই জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এসআইআর নিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। জেলা শাসকের দপ্তরে এই বৈঠক হয়। জেলা শাসক রাজু মিশ্র ছাড়াও বিজেপির বিধায়ক মালতী রাভা, তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা মানস ভট্টাচার্য, ফবর জেলা সভাপতি দীপক সরকার, সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফবর জেলা সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ‘বৈঠকে জেলা শাসককে আমরা জানিয়েছি যে জেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তা ঠিক করতে হবে। এছাড়া ফোন নম্বর সহ বিএলও-দের তালিকা প্রকাশ করতে বলেছি।’
বিধায়ক মালতী রাভা বলেন, ‘ছিটমহলের বাসিন্দারা ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে এসআইআরে ভোটার তালিকায় তাদের নাম তুলতে যাতে অসুবিধা না হয় সেই বিষয়টি জেলা শাসককে দেখতে বলেছি। পাশাপাশি জেলার আইনশৃঙ্খলার যে চরম অবনতি হয়েছে, সেটাও আমরা তাঁকে জানিয়েছি।’
তৃণমূলের তরফে মানস ভট্টাচার্য জানান, বৈঠকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ‘ম্যাচ’ করবে না তাঁদেরকে প্রথমে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। এরপর তাঁদের নোটিশ পাঠানো হবে। এরপর ফর্ম পূরণ করে তাঁকে বিভিন্ন নথিপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলি পরীক্ষানিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ৭ ফেব্রুয়ারি তা প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে, এদিন দিনহাটা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স হলেও মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। মহকুমা শাসক বিধু শেখর ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন সিপিএমের শুভ্রালোক দাস, তৃণমূলের বিশু ধর, নুর আলম হোসেন, কংগ্রেসের কমল দাশগুপ্ত, ফবর বিকাশ মণ্ডল প্রমুখ। এদিন মূলত এসআইআর-এর ফর্ম কীরকম হবে, কীভাবে তা পূরণ করতে হবে ইত্যাদি দেখানো হয়।
