কোচবিহার: রাসমেলা শেষ হয়েছে দশদিন পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও স্টেডিয়ামের মাঠ দখল করে পড়ে রয়েছে রাসমেলার মঞ্চের কাঠামো। বন্ধ হয়ে রয়েছে মাঠের খেলাধুলো। নিয়মিত যাঁরা অনুশীলন করেন তাঁরাও মাঠে যেতে পারছেন না। একটা স্টেডিয়ামের মাঠ দখল করে কী করে এভাবে দিনের পর দিন কাঠামো পড়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে পুরসভা ও প্রশাসন অনেকটাই উদাসীন।
রাসমেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাঠামো খোলার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই মাঠটি পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।’
কোচবিহার শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে মহারাজার নামাঙ্কিত কোচবিহার এমজেএন স্টেডিয়ামটি। একটা সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত খেলাধুলো এই মাঠেই হত। কিন্তু পরে রাজবাড়ি লাগোয়া এলাকায় কোচবিহার স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ায় এই মাঠের ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমেছে। কিন্তু তবুও এই মাঠটিতে সারাবছরই ফুটবল, খো খো, কাবাডি, ক্রিকেট সহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হয়। মাঠ নেই এমন একাধিক স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও এখানেই হয়। এছাড়া জেলা বিদ্যালয় ও কোচবিহার সদর মহকুমা বিদ্যালয় ক্রীড়া সংসদের বিভিন্ন খেলাও এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন খেলোয়াড়রা এই সময় ক্রিকেট খেলে সেই মাঠে। সেই মাঠ এভাবে আটকে থাকায় খেলাধুলো করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেটের প্রাক্তন সচিব সুশান্ত গোপ বলেন, ‘কাঠামো রয়েছে বলে মাঠে খেলোয়াড়রা খেলতে পারবেন না, এটা খুবই দুঃখজনক। এটা চিরদিনের সমস্যা। এই সমস্যার তখনই সমাধান হবে যখন মেলার মাঠে মেলা এবং খেলার মাঠে খেলা হবে।’ স্থানীয় একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে সুশান্ত। আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে সেই মাঠে ওই সংগঠনের খেলা শুরু হবে। তা নিয়ে সুশান্ত বলেন, ‘মাঠের এই অবস্থা থাকায় এখন আমরা সময়মতো খেলা শুরু করতে পারব কি না তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।’
স্থানীয় খেলোয়াড়দের অভিযোগ, কোচবিহার শহরে এমনিতে মাঠের সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় এমজেএন স্টেডিয়ামের মতো মাঠটি দিনের পর দিন এভাবে আটকে থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। সেখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন অভিষেক রায়। তিনি জেলা স্তরে ক্রিকেট খেলেন। অভিষেক বলছিলেন, ‘কোচবিহার শহরে এমনিতেই মাঠের সমস্যা। এই অবস্থায় আমরা নিয়মিত এমজেএন স্টেডিয়ামের মাঠে ক্রিকেট অনুশীলন করি। কিন্তু মেলা শেষ হয়ে গিয়েছে ১০ দিন পার হয়ে গিয়েছে। এখনও মাঠটিতে কাঠামো পড়ে রয়েছে। আমরা অনুশীলন করতে পারছি না। প্রতিদিন মাঠে গিয়ে ঘুরে আসছি।’ একই ক্ষোভের সুর খেলোয়াড় রাজু হোসেনের গলাতেও।
কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় ক্রীড়া সংসদের প্রাক্তন সচিব উত্তম রায় বলেন, ‘মাঠটি ওভাবে আটকে থাকার কারণে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। আমরা দুই-তিনদিনের মধ্যেই পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানাব যাতে মঞ্চ খুলে মাঠটি তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।’
