Cooch Behar | উত্তীর্ণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসন, শঙ্কা গ্রামীণ কলেজে

Cooch Behar | উত্তীর্ণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসন, শঙ্কা গ্রামীণ কলেজে

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: স্নাতক স্তরে কোচবিহার (Cooch Behar) জেলার ডিগ্রি কলেজগুলিতে সবমিলিয়ে এবার আসন রয়েছে ২৭ হাজার। এদিকে এবছর জেলায় উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ পড়ুয়ার সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৬৫ জন। সেদিক থেকে উত্তীর্ণ পড়ুয়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসন রয়েছে কেবলমাত্র জেলার ডিগ্রি কলেজগুলিতে (Faculty)। আবার উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর ডিগ্রি কলেজগুলির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকেই আইটিআই, পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএড, ডিএলএড এবং আইন কলেজে যায়। পড়ুয়াদের একটা অংশ প্রতিবারই পড়াশোনার জন্য বাইরের জেলাতেও যায়। সেক্ষেত্রে নামকরা কলেজগুলিতে ছাত্র ভর্তি হলেও গ্রামীণ এলাকার কলেজগুলিতে গতবারের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে বলে মনে করছেন অধ্যাপকরা।

কিন্তু জেলার ডিগ্রি কলেজগুলির কেন এই পরিস্থিতি? অধ্যক্ষদের দাবি, কলেজগুলিতে মেজর এবং মাইনর চালু হওয়ায় আসন সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। বাংলা, ইংরেজি বা ভূগোল এবং বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে পড়ুয়ারা ভর্তি হলেও ইকনমিক্স, বাণিজ্য বিভাগ সহ একাধিক বিষয়ে আসন প্রতিটি কলেজেই ফাঁকা থাকছে। সেখানেই শেষ নয়, ইকনমিক্যালি উইকার্স সেকশন (ইডব্লিউএস)-এ প্রতিটি কলেজেই সব আসনই ফাঁকা রয়েছে। এছাড়াও পড়ুয়ার সংখ্যা কম থাকায় এবং পড়ুয়ারা শহরমুখী হওয়ায় বিশেষ করে গ্রামীণ কলেজগুলিতে প্রতিটি বিষয়েই আসন ফাঁকা থাকছে।

গতবছর জেলায় ২২ হাজার ৫ জন পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এবারে সেই সংখ্যাটা প্রায় ১৪ হাজার। এদিকে, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলির মধ্যে এবিএন শীল কলেজে স্নাতক স্তরে ১৩২৬টি আসন, কোচবিহার কলেজে ৩০৬০টি, ঠাকুর পঞ্চানন মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ১৮০০টি, দিনহাটা কলেজে ৪৫০০টি, বাণেশ্বর সারথীবালা মহাবিদ্যালয়ে ১১২৪টি, মাথাভাঙ্গা কলেজে ৪১০০টি আসন রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে শীতলকুচি কলেজ, ঘোকসাডাঙ্গা বীরেন্দ্র মহাবিদ্যালয়, মেখলিগঞ্জ কলেজ, মধুসূদন হোড় মহাবিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয়, বক্সিরহাট মহাবিদ্যালয়, তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয় এবং দেওয়ানহাট কলেজে। অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ইউনিভার্সিটি বিটি অ্যান্ড ইভনিং কলেজে সবমিলিয়ে ২২০০টির মতো আসন রয়েছে।

এত আসন থাকলেও গতবছর এবিএন শীল কলেজে ১১৫০ জন, কোচবিহার কলেজে ২০০০ জন, মেখলিগঞ্জ কলেজে ৮৫০ জন, বাণেশ্বর সারথীবালা কলেজে ৭৫০ জন, ইউনিভার্সিটি বিটি অ্যান্ড ইভনিং কলেজে ৭০০ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিল। বাকি কলেজগুলিতে প্রচুর আসন ফাঁকা ছিল। কোচবিহার কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ পঙ্কজকুমার দেবনাথ বলেন, ‘মেজর এবং মাইনর চালু হওয়ায় আসন সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। এতে বেশ কিছু বিষয়ে আসন ফাঁকা থাকছে। তবে প্রত্যেকেই শহরমুখী হওয়ায় গ্রামীণ কলেজগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা আরও কমতে পারে।’

স্নাতক স্তরের আসন সংখ্যার তুলনায় জেলায় উত্তীর্ণের সংখ্যা কম থাকায় বিশেষত গ্রামীণ এলাকার কলেজগুলিতে ছাত্র কমতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধ্যক্ষদের একাংশ। গতবার কলেজগুলিতে প্রচুর আসন ফাঁকা ছিল। এবার সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে জেলার এমনকি বাইরের পড়ুয়ারাও কোচবিহারের নামকরা কলেজগুলিতে ভর্তির আবেদন করবে। সেক্ষেত্রে জেলার নামকরা কিছু কলেজে পড়ুয়াদের ভিড় বাড়লেও প্রান্তিক কলেজগুলির পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষা মহল। এবিএন শীল কলেজের অধ্যক্ষ নিলয় রায় বলেন, ‘এত কম সংখ্যা পড়ুয়া পাশ করায় প্রচুর আসন ফাঁকা থাকবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *