কোচবিহার: ফাগুন হাওয়া বইছে। ফুলে ফুলে ভরেছে গাছ। বছর শেষের বসন্ত জানান দিচ্ছে, উৎসব আসছে।দুর্গাপুজোর এখনও আট মাস বাকি। কিন্তু এখন থেকেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কোচবিহার বটতলা স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের পুজোর এবার ৭৫তম বর্ষ। বাজেটও বিশাল, ৭৫ লক্ষ। মহালয়ার দিন থেকে রাজ্যের বিগ বাজেটের অধিকাংশ পুজোমণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ইদানীং বোধনের কয়েকদিন আগেই পুজোর উদ্বোধন হয়ে যায়। এতদিন এই ট্রেন্ড ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। তবে পুজোর আট মাস বাকি থাকতে নজিরবিহীনভাবে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেল কোচবিহারের মতো প্রান্তিক জেলাতেও।
ক্লাবের মাঠে এসে পৌঁছেছে বাঁশ। সকাল সকাল প্যান্ডেল বানানোর কারিগররা মাপজোখ করছেন। দড়ি টানছেন, পাশে দাঁড়িয়ে থিম নিয়ে তখন আলোচনায় ব্যস্ত ক্লাব সদস্যরা। পুজোর চারটে দিন কী কী আয়োজন হবে, তা নিয়ে দিনভর চলল চর্চাও। কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়েই এখন পুজো পুজো গন্ধ।
এই ক্লাবের দুর্গাপুজো এবার ৭৫তম বর্ষে পদার্পণ করছে। ইতিমধ্যেই খুঁটিপুজোও হয়ে গিয়েছে। বাঁশ পড়তে শুরু হয়েছে ক্লাব সংলগ্ন মাঠেই। রাজ শহরের এই পুজোর বাজেট মহানগরীর যে কোনও পুজোকেই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর এবারের থিম ‘আগমনী’। পুজোর বাজেট প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয়ার সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন হবে বলে আপাতত ঠিক করা হয়েছে।
দোল উৎসব আসতে কয়েকদিন বাকি। তা সত্ত্বেও পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এত ব্যস্ততা কীসের? প্রশ্ন করতেই উদ্যোক্তারা জানান, পুজোর ৭৫তম বর্ষে তাঁরা চাইছেন জাঁকজমক করে আয়োজন করে জেলাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিতে। আগেভাগে যোগাযোগ না করে রাখলে পরে ভালো শিল্পী পাওয়া যায় না। তাঁরা অন্য ক্লাবগুলির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেজন্য আগেভাগে প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছেন কর্মকর্তারা।
এদিন ব্যস্ততার ফাঁকে তাঁরা জানান, জেলার শিল্পীদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গ থেকে শিল্পীরা মণ্ডপসজ্জার কাজ করতে আসছেন।
এবছর বটতলা স্পোর্টিং ক্লাব কোচবিহার জেলা তো বটেই, উত্তরবঙ্গের মধ্যে অন্যতম বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজন করতে চলেছে। পাড়ার বাসিন্দারা মিলে কয়েকবার চাঁদা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি থিম, পুজোর বাজেটও ঠিক করে ফেলেছেন। সেখানেই শেষ নয়- ইতিমধ্যেই কোচবিহারের মৃৎশিল্পীর কাছে মায়ের মূর্তি তৈরির বরাত দেওয়াও সেরে ফেলেছেন। পুজো কমিটির পক্ষে বাপি দে বলেন, ‘বছরভর আমরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক কাজকর্ম করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এলাকার বয়স্ক নাগরিক থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্ম, এমনকি পাড়ার মহিলাদের নিয়ে পুজো কমিটি তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানালেন, গোটা বছর ধরে মাসিক কিস্তিতে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিজ্ঞাপন সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। ক্লাব সম্পাদক শুভময় দে বলেন, ‘তিনটি ভিন্ন ধরনের প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের চমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলার শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার শিল্পীরা আমাদের মণ্ডপ তৈরি করবেন। বুধবার থেকে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হবে।’ সব মিলিয়ে এ দিয়ে যেন এবারের পুজোয় ঢাকে কাঠি পড়ে গেল কোচবিহারে।
