উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ৮ বছরের একটি পুরোনো মামলায় ১৩ তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে কারাদণ্ড দিল আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কাকলি গুপ্ত। শুক্রবার দোষী সাব্যস্তদের সাজা শুনিয়েছেন বর্ধমান জেলা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র। খুনের চেষ্টা, গন্ডগোল পাকানো সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তারা।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে খুনের চেষ্টা, মারধর-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয় বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কাকলি গুপ্ত, ওই ব্লকের যুব সভাপতি মানস, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক এবং রায়ান-১ অঞ্চলের সভাপতি শেখ জামাল-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৮ বছর বর্ধমান আদালতে মামলা চলে। গত সোমবার তৃণমূলের ওই ১৩ হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র। সেই নির্দেশ মোতাবেক মঙ্গলবারই ধৃতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়। গত ২৪ মার্চ তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সে দিন আদালত থেকে সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাকলি, মানস, কার্তিক এবং জামাল। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে। বুকে ব্যথার কথা জানান কাকলি। ইসিজি রির্পোটে সমস্যা ধরা পড়ে। তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ‘উইংস’ অনাময় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।
বুধবার দুপুরের পর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় ১২ অভিযুক্তকে। কাকলি বয়ান দেন হাসপাতাল থেকে। ভিডিও কনফারেন্সে তাঁর বক্তব্য শোনেন বিচারক। সেই দিনই মোট ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সেই সঙ্গে শুক্রবার সকলকে আদালতে হাজির করানোর জন্য জেলারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক মিশ্র। এদিন বিকেলে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক।
বিচারক এদিন বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কাকলিতা গুপ্তকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন। ওই একই মামলায় বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূল যুব সভাপতি এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানস ভট্টাচার্য শেখ জামাল, কার্তিক বাগদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
