উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বাম-কংগ্রেস জোটের (Congress CPIM Alliance) ‘মধুর’ সম্পর্ক কি তবে ‘অম্ল’ হতে শুরু করেছে? সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতা এবং তৃণমূলের প্রতি তথাকথিত ‘নমনীয়’ মনোভাব নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন তিনি।
সেলিমের নিশানায় প্রদেশ নেতৃত্ব-
সেলিমের দাবি, অধীর চৌধুরী যখন সভাপতি ছিলেন, তখন বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা ছিল স্পষ্ট। কিন্তু বর্তমান সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি এক প্রকার ‘দরদ’ লক্ষ্য করছেন তিনি। সেলিমের কথায়, ‘শুভঙ্কর বাবু নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, এআইসিসি-র নির্দেশের জন্য বসে আছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, শুভঙ্কর বাবু বোধহয় লাভ-ক্ষতির অঙ্ক কষছেন—তৃণমূল, বিজেপি না কি বাম, কার দিকে গেলে পাল্লা ভারী হবে। কিন্তু রাজনীতি যে এভাবে হয় না, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন সেলিম।
‘কারও পা ধরতে পারব না’—স্পষ্ট বার্তা সেলিমের
জোট নিয়ে দোলাচলের মাঝেই সিপিএম স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কংগ্রেসের জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করা বামফ্রন্টের পক্ষে সম্ভব নয়। সেলিম সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন, “আমি কাউকে ছাড়ছি না, আবার জোটের জন্য কারও পা ধরতেও পারব না। কংগ্রেসকে ঠিক করতে হবে তারা কার সঙ্গে যাবে।”
কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল?
রাজনৈতিক মহলের খবর, অধীর চৌধুরীর অনুগামীরা বামেদের সঙ্গে জোটের পক্ষে থাকলেও, বর্তমান সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের শিবির ‘একলা চলো’ বা তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখতে আগ্রহী। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলই জোট প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। সেলিমের এই হুঁশিয়ারি কি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকে দ্রুত সিদ্ধান্তে বাধ্য করবে, না কি রাজ্যে জোটহীন এক ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে—এখন সেটাই দেখার।
