শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: প্রশাসনিক জটিলতায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের (College of North Bengal) নিয়মিত এবং দূরশিক্ষা বিভাগের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের ১৩টি সিমেস্টারের প্রায় ছয় হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা (North Bengal College Information) নিয়ে তৈরি হল চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা। তাদের প্রাপ্য তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া না মেটানোয় পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্মের দায়িত্বে থাকা সংস্থা বেঁকে বসেছে। টাকা না পেলে কাজ না করার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে তারা।
৬ জানুয়ারি থেকে স্নাতকোত্তরের প্রথম ও তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা (NBU Examination Disaster 2026) শুরুর কথা ছিল। আপাতত তা হচ্ছে না বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে। তার আগে তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই সেই পরীক্ষার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আটকে গিয়েছে আইন বিভাগের স্নাতক স্তরের ১, ৩, ৫, ৭ এবং ৯- পাঁচটি এবং দূরশিক্ষা বিভাগের চারটি সিমেস্টারের পরীক্ষাও। সমস্যা মেটাতে শুক্রবার বিভিন্ন আধিকারিক এবং বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস। সেই বৈঠক থেকে কোনও সমাধানসূত্রই বের হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়েন্ট রেজিস্ট্রার স্বপনকুমার রক্ষিতের বক্তব্য, ‘ঠিক হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার এমডি’র সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আধিকারিক বৈঠক করবেন। উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার কাজকর্ম চালিয়ে যেতে তাঁকে অনুরোধ করা হবে।’ যদি অনুরোধ না মানেন সেক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ হবে তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। জয়েন্ট রেজিস্ট্রারের কথা, ‘সমস্যা মিটবে বলে আমরা আশাবাদী। না মিটলে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক ও শিক্ষকরা বলছেন, সংস্থা অনুরোধ মানলেও মাস দেড়েকের আগে পরীক্ষা শুরু করা কার্যত সম্ভব নয়। কারণ হিসাবে তাঁদের যুক্তি, এখনও স্নাতকোত্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ফর্ম ফিলআপের কাজ হয়নি। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশ না হলে রেগুলার পরীক্ষা শুরু করা যাবে না। ওই পরীক্ষার সঙ্গে রেগুলার পরীক্ষা সম্পর্কযুক্ত। সাপ্লিমেন্টারির মতো একইভাবে প্রতিটি পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ ও প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ বাকি। সেইসব কাজ শেষ করে পরীক্ষা শুরু করতে সময় লাগবে।
যদি সংস্থা অনুরোধ না মানে তাহলে কী হবে? সূত্রের খবর, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগ তাদের মতো করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে বলে এদিনের বৈঠকে কয়েকজন শিক্ষক প্রস্তাব দেন। যদিও সেভাবে পরীক্ষা নেওয়া যে বাস্তবে সম্ভব নয় বা সম্ভব হলেও তাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে পালটা মত দিয়েছেন শিক্ষক, আধিকারিকদের একটা বড় অংশই। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সিবিসিএস ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তরের রেগুলার দুটি সিমেস্টারেই রয়েছে দু’হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। আইনের স্নাতক স্তরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এর উপর রয়েছে দূরশিক্ষা ও সাপ্লিমেন্টারির পরীক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক শংকরী চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করাটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ। প্রয়োজনীয় সময় দিলে কর্তৃপক্ষ যেভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে বলবে আমরা সেভাবেই পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রস্তুত।’ সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য ছাত্রছাত্রীদের তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে এদিন একটি দাবিপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ফল প্রকাশে দেরি হবে। তা হলে অন্যত্র ভর্তি, চাকরির পরীক্ষা সহ নানা সমস্যায় পড়তে হবে পড়ুয়াদের। উপাচার্যহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা সমস্যা কবে মিটবে সেটাই আপাতত লাখ টাকার প্রশ্ন।
