College of North Bengal | উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতির তান্ডব, এখনও ক্যাম্পাসেই রয়েছেন ‘গজরাজ’

College of North Bengal | উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতির তান্ডব, এখনও ক্যাম্পাসেই রয়েছেন ‘গজরাজ’

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


শিলিগুড়ি: শুক্রবার মাঝরাতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে একটি দলছুট মাকনা হাতি তান্ডব চালায়। হাতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর, গেস্ট হাউসের সীমানা প্রাচীর, ড্রপ গেট এবং একটি ফাস্ট ফুডের দোকান ভাংচুর চালিয়ে ভোরে বিদ্যাসাগর মঞ্চের পাশে শালবনে ঢুকে যায়। বিশ্ববিদ্যালের ক্যাম্পাসে হাতির এই আগমন ঘিরে ক্যাম্পাসে রাত থেকে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সকালে খবর চাউর হতেই দলে দলে মানুষ হাতি দর্শন করতে চলে আসেন। তবে অধিকাংশ মানুষ হাতির কান নড়াচড়া করতে দেখা ছাড়া পুরো হাতি দর্শন করতে পারে নি, কারন ঝোপের মধ্যে গাছের ছায়ায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিল হাতিটি।

শুক্রবার মাঝ রাতে মাকনা হাতিটি বাগডোগরা বন থেকে তারাবাড়ি গ্রাম,রঙ্গিয়া গ্রাম হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে ভরতবস্তি হয়ে ক্যাম্পাসের দেয়াল ভেঙে ঢুকে পরে।এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালের ইতিহাসে দ্বিতীয় বার হাতির প্রবেশ ঘটে। এর আগে ২০০৯ সালে শিবমন্দিরে বিডিও অফিসের সামনে দিয়ে অনিল সিনহার বাড়ির ভিতর দিয়ে মাস্টার পাড়া হয়ে সীমান প্রাচীর ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢুকে ছিল হাতি। এর আগে ক্যাম্পাসে হরিন,চিতাবাঘও ঢুকে ছিল। অজগর সাপও দেখা গিয়েছে কয়েকবার।

এদিন হাতি ক্যাম্পাসে ঢুকে কমার্স বিভাগের সামনে রেখা দাসের ফাস্ট ফুটের দোকান উল্টে দিয়ে দোকান ভেঙে ভেতরে রাখা আটা,ময়দা চিনি সাবার করে। রেখা বলেন, ‘স্বনির্ভর দল থেকে লোন নিয়ে ভালো করে দোকান বানিয়েছিলাম, সব শেষ করে দিয়েছে।’ এরপর হাতিটি থেকে চলে যায় গেস্ট হাউসের দিকে। গেস্ট হাউসের পূর্ব দিকের পাচিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভিআইপি গেট ভাঙার চেষ্টা করলে সেই শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে গেস্ট হাউসের কর্মী গোকুল সিংহের। গোকুল বলেন, ‘ঘুম ভেঙে সামনে হাতি দেখে চমকে যাই। হাতিটি এখান থেকে বের হয়ে স্টেট ব্যাংকের দিকে যায়। সেখানে ড্রপ গেট ভেঙে আবার এদিকে এসে ল’ মোড়ের দিকে যায়, এরপরে শাল বনের দিকে যায়। ততক্ষনে বনকর্মীরা চলে আসেন।’

এদিন শাল বনে হাতি ঢোকার পর কার্সিয়াং বন বিভাগের এডিএফও রাহুল দেব মুখোপাধ্যায় এবং কার্সিয়াং বন বিভাগের রেঞ্জের কর্মীরা শাল বনের চারপাশে ঘিরে রেখে নজদারি চালান। বেলা যত বাড়তে থাকে উৎসুক মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে মাইক নিয়ে এলাকার মানুষকে সাবধান করে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা ঘরের বাইরে যাতে না বের হন। বিশ্ববিদ্যালের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নুপুর দাস বিঞ্জপ্তি জারি করে ক্যাম্পাসের পড়ুয়া,অধ্যাপক,শিক্ষা কর্মী,আধিকারিক ও তাঁদের পরিবারের সবাইকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন।

বন বিভাগের সিসিএফ (হিল সার্কেল) সমীর গজমের, এডিএফও রাহুল দেব মুখোপাধ্যায় সহ ৭টি রেঞ্জের প্রায় শতাধিক কর্মী মিলে বিকেল ৫ টা নাগাদ হাতিটিকে গাইড করে বনে ফেরানোর কাজ শুরু করেন। কিন্তু সমস্যা হয় বিকেল থেকে কয়েক হাজার উৎসুক মানুষ চারদিক ঘিরে রাখায়। বন কর্মীরা শুরুতে হাতিটিকে গাইড করে বের করার সময় পাচিলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে হাতিটি ফের শাল বনে ঢুকে পরে। পরে মাটিগাড়া থানায় বেশ কিছু পুলিশ এসে জনতাকে সামাল দেয়। শেষপর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, হাতিটি এখনও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *