কল্লোল মজুমদার, মালদা: ফের বিতর্ক দেখা দিয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে (College of Gour Banga)। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে অপসারণ করায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন ওয়েবকুপার সদস্য তথা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কের অধ্যাপক সনাতন দাস। এবার সেই সনাতন দাসকে শোকজ করলেন ভারপ্রাপ্ত নয়া রেজিস্ট্রার জ্যোৎস্না সাহা। একই কারণে শোকজ করা হয়েছে এডুকেশন বিভাগের ডিন অধ্যাপক দেবব্রত দেবনাথকে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত নয়া রেজিস্ট্রার তাঁদের শোকজ করেছেন। সনাতন দাসের বিরুদ্ধে উপাচার্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দেওয়ার কারণ দেখিয়ে শোকজ করা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে শোকজের উত্তর চাওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে নয়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জ্যোৎস্না সাহাকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে শোকজের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি তো কিছু জানি না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে মালদার (Malda) বাইরে আছি।’
সনাতন দাস গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য (ইসি)। এদিন শোকজের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। যা নিয়ে ফের বিশ্ববিদ্যালয় উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পড়ুয়ারা।
সনাতন দাসের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ করা হয়েছে শোকজ পত্রে? শোকজে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন, দপ্তরের কাজে বাধা দিয়েছেন। শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আপনি এবং অন্যরা জোর করে এবং অনুমোদন ছাড়াই উপাচার্যের চেম্বারে প্রবেশ করেছিলেন। যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে একটি অফিশিয়াল অনলাইন সভা করছিলেন। সেই সময় সভার সমাপ্তি পর্যন্ত বাইরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা সত্ত্বেও, আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের আইনানুগ নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং চেম্বারের ভিতরেই অবস্থান করছেন।’ ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এমন আচরণে আপনি লিপ্ত হয়েছেন এবং এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যা আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক, ভীতিপ্রদর্শক।’ শোকজ প্রসঙ্গে সনাতন বলেন, ‘আমি ওখানে অধ্যাপক হিসেবে যাইনি। আমি গিয়েছিলাম ইসি সদস্য হিসেবে। একজন ইসি সদস্যকে শোকজ করার এক্তিয়ার কি আছে উপাচার্য কিংবা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের? আমি আইনের দিকটি খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেব এই শোকজের উত্তর দেব কি না।’
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক সাধন সাহার মন্তব্য, ‘এটা কার্যত স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ। ইতিমধ্যে দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় যেতে পারিনি। হয়তো এবার আমাকেও শোকজ করা হবে।’
এডুকেশনের ডিন দেবব্রত দেবনাথ বলেন, ‘আমাকে আমার পার্সোনাল মেলে শোকজ লেটার পাঠানো হয়েছে। সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে উত্তর দেওয়ার জন্য। ভাবনাচিন্তা করছি উত্তর দেব কি না। আমি যেমন ডিন তেমনি একজন ইসি সদস্য। এভাবে শোকজ করার এক্তিয়ার আদৌ আছে কি, প্রশ্ন সেখানেই। আমাদের ধারণা, আরও কয়েকজনকে শোকজ করা হবে।’
