উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বয়স ধরে রাখতে বা ত্বকের জেল্লা বাড়াতে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। কোলাজেন মূলত এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন, যা শরীর নিজে থেকেই তৈরি করে। গবেষকদের মতে, আপনি যখন কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট খান, তা সরাসরি ত্বকে পৌঁছে যায় না। পরিপাক প্রক্রিয়ায় এটি প্রথমে ক্ষুদ্র প্রোটিন কণায় (অ্যামিনো অ্যাসিড) ভেঙে যায়। এরপর শরীর তার প্রয়োজন অনুযায়ী সেই উপাদান ব্যবহার করে কোলাজেন তৈরি করে। অর্থাৎ, আপনি সাপ্লিমেন্ট খেলেই তা সরাসরি আপনার ত্বকের বলিরেখা দূর করবে—এমনটা নিশ্চিত নয়।
গবেষণা কী বলছে?
-
২০২৩ সালের গবেষণা: নিয়মিত কোলাজেন গ্রহণে কিছু মানুষের ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়লেও, এটি সবার ক্ষেত্রে সমান ফল দেয়নি। গবেষকরা মনে করেন, এ বিষয়ে আরও বড় ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা প্রয়োজন।
-
২০২৫ সালের নতুন তথ্য: সাম্প্রতিক সব গবেষণাকে একত্রে ধরলে ইতিবাচক কিছু প্রভাব দেখা গেলেও, একে বার্ধক্য রোধের নিশ্চিত কোনো উপায় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাচ্ছে না।
-
১২ সপ্তাহের পরীক্ষা: কিছু নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, একটানা ১২ সপ্তাহ কোলাজেন নিলে ত্বকের উজ্জ্বলতায় সামান্য উন্নতি হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ঠিক কতটা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও সন্দিহান।
খাবারের গুরুত্ব ও ভিটামিন সি:
বিজ্ঞান বলছে, শরীরকে যদি সঠিক পুষ্টি দেওয়া যায়, তবে সে নিজেই পর্যাপ্ত কোলাজেন তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক খাদ্যের ভূমিকা বেশি:
-
ভিটামিন সি: এটি কোলাজেন তৈরির প্রধান রাসায়নিক কারিগর। লেবু বা টক ফল নিয়মিত খেলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই ভালো থাকে।
-
প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: সুষম প্রোটিন এবং শাকসবজি কোষের ক্ষয় কমিয়ে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে।
উপসংহার: সাপ্লিমেন্ট কি জরুরি?
কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট হয়তো সামান্য উপকার করতে পারে, কিন্তু এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। বিজ্ঞানের মতে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত জল, সঠিক ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ত্বককে ভিতর থেকে তরুণ রাখার আসল চাবিকাঠি।
