উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কয়লা পাচার মামলায় (Coal rip-off case) ফের অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) (ED)। শুক্রবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একই মামলায় তল্লাশি চলছে ঝাড়খণ্ডেও (Jharkhand)। ভোর থেকে দুটি রাজ্য মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি চলছে।
এদিন কলকাতার (Kolkata) সল্টলেক, আসানসোল, দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, হাওড়ার একাধিক জায়গায় হাজির হন ইডি আধিকারিকরা। প্রতিটি দলের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। যাঁদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁরা হলেন, নরেন্দ্র খারকা, অনিল গয়াল, যুধিষ্ঠির ঘোষ, কৃষ্ণ মুরারি কয়াল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালানো হয়েছে বাড়ি, অফিস, কোক প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে অবৈধ টোল সংগ্রহকারী বুথ সহ বহু জায়গায়।
দুর্গাপুরের বিধাননগরের শালানপুরিয়া আবাসনে ভোরবেলা থেকে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সূত্রের খবর, সুশান্ত গোস্বামীর একটি আবাসন রয়েছে। সেখানেই চলছে এই অভিযান। এই সুশান্ত গোস্বামী কয়লা পাচার বা কয়লা সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত থাকতে পারে। আসানসোল মহকুমার কুলটি থানার চৌরঙ্গি ফাঁড়ি এলাকার ডুবুরদিহি চেকপোস্টের কাছে পার্কিং লটের কাছে একটি কয়লা সিন্ডিকেটের অফিস রয়েছে। সেই অফিসেও অভিযান চালানো হয়। অফিসের সমস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেন এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বাড়ি এবং অফিসেও অভিযান চলছে। এদিকে, ইডির অন্য একটি দল এদিন সকালে দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বর এলাকায়ও তল্লাশি শুরু করেছে। পাণ্ডবেশ্বরের খোট্টাডিহি গ্রামের ডোনা পাড়ায় যুধিষ্ঠির ঘোষের বাড়িতে ভোর ৫টা থেকে অভিযান চলছে। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছে। সূত্রের খবর, যুধিষ্ঠির ঘোষ আগে অবৈধ কয়লা ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মামলায় জেল খেটেছে। বর্তমানে সে জামিনে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে সে অজয় নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় জল্পনা চলছে যে এদিনের ইডির এই অভিযান কয়লা এবং বালি পাচার উভয়ের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়া এদিন ঝাড়খণ্ডেরও একাধিক ঠিকানায় গিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। তার মধ্যে রয়েছে বিসিসিএল (BCCL)-এর ঠিকাদার তথা কয়লা ব্যবসায়ী এলবি সিং-এর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি। এলবি সিং-এর সংস্থায় এর আগে আয়কর বিভাগ অভিযান চালিয়েছিল। সেই সময় ১০০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সিবিআই অভিযানে এলবি সিং-কে টেন্ডার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সেই মামলা ECIR হিসেবে নথিভুক্ত করার পরই ইডি এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে।
