উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড়সড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী ১৬ অগাস্ট রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ (Ayushman Diwas)। প্রসঙ্গত, ওইদিনই রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে এই দিনটি ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও, এবার তাতে সম্পূর্ণ নতুন মোড় আসতে চলেছে।
মেচেদায় তমলুক (Tamluk) সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ১৬ অগাস্টের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “১৬ অগাস্ট আমাদের সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। কিন্তু কলকাতার ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ভয়াবহ। এই দিনটিতেই সুরাবর্দির নেতৃত্বে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটেছিল। দুর্ভাগ্যবশত, বিগত সরকার এই দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালন করত।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার এই দিনটিতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর গুরুত্ব তুলে ধরতে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৬ অগাস্ট দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করেছিলেন। মূলত নির্বাচনী স্লোগান ‘খেলা হবে’-কে অমর করে রাখতেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে কেন বিশেষ করে এই দিনটিই বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বরাবরই রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিগত সরকার রাজনৈতিক উস্কানি দিতেই এই দিনটিকে বেছে নিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যবাসী এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সরকারের এই প্রকল্পের নামে দিবস পালনের ঘোষণা আদতে একটি সুদূরপ্রসারী বার্তা। একদিকে ঐতিহাসিক দাঙ্গার কালো অধ্যায় মুছে ফেলা এবং অন্যদিকে স্বাস্থ্যসুরক্ষার মতো জনহিতকর প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ অগাস্টকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাইছে শাসকদল। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

