উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহুবার পাহাড়ে এলেও, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই ছিল তাঁর প্রথম সফর। আর প্রথম সফরেই কার্শিয়াংয়ের গোথালস গ্রাউন্ডের ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ঘোষণা ও রাজনৈতিক হুঙ্কারে পাহাড়ের আবহাওয়া এক নিমেষে বদলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
এদিন পাহাড়ের সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হয় যৌথ সংবর্ধনা। সেই আবেগঘন মুহূর্তের রেশ ধরেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন তাঁর কাজের ধরণ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন পাহাড়ে তাঁর ভোট নেই, তাই তিনি কাজও করতেন না। তিনি স্রেফ পর্যটক হয়ে পাহাড়ে আসতেন এবং ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসেবে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। আমি যা বলব, তা-ই করব— এটাই আমার অঙ্গীকার।”
বিগত জমানার নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পাহাড়ের জিটিএ (GTA)-তেও পূর্বে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তবে তাঁর সরকার স্বচ্ছতার পথে হাঁটবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে পুলিশে বড় নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাহাড়ের বীর শহিদ সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যখনই দেশ ভাঙার চক্রান্ত হয়েছে, পাহাড়ের মানুষেরাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়ের চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত করতে কালিম্পংয়ে গড়ে তোলা হবে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ। এছাড়াও পাহাড়ের শিক্ষা পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন, সরকারি ভর্তুকি বজায় রাখা এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরির আশ্বাস দেন তিনি। কেন্দ্রীয় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতদিন যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্প থমকে ছিল, এবার তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে। রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন এবং ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ মিলবে।
দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— এই তিন বিধানসভা আসন বিজেপির (BJP) দখলে। সেই আস্থার মর্যাদা দিতেই পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের রোডম্যাপ তৈরি করছে তাঁর সরকার, এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
