উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্না কর্মসূচি মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পা রাখল। আর এই পঞ্চম দিনে প্রতিবাদের এক অভিনব ভাষা বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee’s Dharna)। এদিন তাঁর প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠল তুলি আর ক্যানভাস। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে তিনি আঁকলেন এক প্রতীকী ছবি, যার নাম দিলেন ‘ভ্যানিশ কুমার’।
প্রতিবাদের নতুন ভাষা: ‘ভ্যানিশ কুমার’
মঙ্গলবার ধর্নামঞ্চে বসে ক্যানভাসে ছবি আঁকতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানে ইংরেজি হরফে বড় বড় করে লেখা ‘SIR’। তার নিচেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন ‘ভ্যানিশ কুমার’। ছবি আঁকা শেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ব্যাখ্যাও দেন। তিনি বলেন, “এই ছবিটা সম্পূর্ণ প্রতীকী। এসআইআরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, মানে সমস্ত ডেডবডিগুলি ভ্যানিশ করে দিয়েছে। সেই মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতেই পাশে দুটো মালা এঁকেছি।” তাঁর অভিযোগ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে আসলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপিকে ‘কাপুরুষ’ বলে আক্রমণ
সোমবারের মতো মঙ্গলবারও বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল (TMC) নেত্রী। গেরুয়া শিবিরকে ‘ভীতু’ ও ‘কাপুরুষের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওদের পিছনে মানুষের সমর্থন নেই, তাই মানুষ আসছে না। ভয় পেয়ে ওরা এখন নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে।”
মঞ্চে ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব সমাজের উপস্থিতি
এদিনের ধর্নামঞ্চে বিশেষ মাত্রা যোগ করে ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গ ব্রাহ্মণ সমাজের প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “রাজ্যের প্রায় ২ কোটি মানুষ ব্রাহ্মণ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। দিদি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন, অনুদান দিয়েছেন। এই বিশাল অংশের মানুষের সমর্থন নিশ্চিতভাবেই তাঁর দিকে থাকবে।” এই সমর্থন মেলায় আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের পাল্লা যে ভারি হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিতই দিতে চেয়েছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিবাদের আবহেও এদিন সকালে ‘মঙ্গলদীপ’ গানের সুরে গলা মেলাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। একদিকে আধ্যাত্মিকতা ও অন্যদিকে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই—এই দুই ধারাকে পাথেয় করেই তৃণমূলের এই অবস্থান কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে। মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নতুন সরকার গড়ার যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই জটিলতা কাটে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। আপাতত ধর্মতলার এই মঞ্চ থেকেই দিল্লির নির্বাচন সদনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।
