সামসী: বেতন কম, সংসারে আর্থিক অনটন, ঋণের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন চাঁচল থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ার। শুক্রবার রাতে নিজের শোবার ঘর থেকে উদ্ধার হয় ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম মিঠুন সরকার(৩৫)। তাঁর বাড়ি চাঁচল-২ ব্লকের গৌড়হন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের সদরপুর গ্রামে। আর্থিক সঙ্কটের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সিভিক ভলান্টিয়ার মিঠুন চাঁচল থানায় ২০১৩ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। সামান্য বেতনে তিনি সংসার টানতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বাজারে মোটা অংকের ঋণও হয়েছিল। আর্থিক সংকট সামলাতে না পেরে সিভিকের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে সম্প্রতি ব্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে। সেখানে কয়েকমাস থেকে বাড়ি ফিরে আবারও সিভিকের কাজে যোগ দেন। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মিঠুন। কিন্তু ঘাড় থেকে ঋণের বোঝা না নামার ফলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মিঠুন। পরিবারের দাবি, সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজে বেতন কম। এই বেতনে সংসার চালাতে পারছিলেন না।
মৃতের কাকা সদাইচন্দ্র সরকারের বক্তব্য, সিভিকের খুব অল্প বেতনে সংসার চলছিল না। ছেলের লেখাপড়ার খরচ, অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কেনা সব মিলিয়ে হিমশিম অবস্থা। তাই অভাবের জেরেই মিঠুন আত্মহত্যা করেছে বলে সাফ জানান তিনি।
চাঁচল থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুন্ডুর বক্তব্য, পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে পরিবারের তরফে কাজের আবেদন করলে তা বিবেচনার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হবে।
