অনুপ সাহা, চুইখিম: পাখির মতো স্বাধীনতা কে না চায়! বিখ্যাত ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর অত্যন্ত জনপ্রিয় গানটি উড়ে বেড়ানোর আনন্দের কথাই বারবার তুলে ধরে। ‘এমন যদি হতো, আমি পাখির মতো, উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ।’ পাখির মতো যখন ইচ্ছে তখন উড়ে বেড়ানোর সুযোগ মানুষের তো নেই। তবে সারাক্ষণ না হলেও একটানা ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবধি আকাশের বুকে পাখির মতো ভেসে বেড়ানোর রোমাঞ্চ এবার পাওয়া যেতে পারে চুইখিমে (Chuikhim)। এখন থেকে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকের দল কালিম্পং জেলার ছবির মতো সুন্দর এই পাহাড়ি গ্রামে প্যারাগ্লাইডিং করার সুযোগ পাবেন। কালিম্পংয়ের বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা, জিটিএর স্থানীয় সভাসদ সঞ্চাবির সুব্বা, জিটিএর পর্যটন বিভাগের ফিল্ড ডিরেক্টর দাওয়া শেরপা, পাবরিংটার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবিন সুব্বা প্রমুখর হাত ধরে শুক্রবার থেকে চুইখিমে চালু হয়ে গেল প্যারাগ্লাইডিং।
চুইখিম ভিলেজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এলাকায় পর্যটনকেন্দ্রিক জীবন ও জীবিকাকে আরও উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ট্রায়াল রান সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছিল। তারপর এদিন প্রথম প্যারাগ্লাইডিং করলেন রূপক অধিকারী নামে এক প্রশিক্ষিত পাইলট। ট্যুরিস্টদের মধ্যে গরুবাথানের হায়দর আলিও এদিন প্যারাগ্লাইডিং করেছেন। এনিয়ে জিটিএর সভাসদ সঞ্চাবির বলেন, ‘‘সুন্দর এই পাহাড়ি গ্রামের লিম্বুদাড়া থেকে ‘টেক অফ’ করে নির্দিষ্ট সময় ওড়ার পর দুটো পাহাড়ের মাঝে লিস নদীর ধারে সবুজ মাঠে ‘ল্যান্ডিং’ করবেন পর্যটকরা।’’
অন্যদিকে জিটিএর পর্যটন বিভাগের ফিল্ড ডিরেক্টর দাওয়া শেরপার কথায়, ‘আশা করছি প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের রোমাঞ্চ অনুভব করতে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে তো বটেই দক্ষিণবঙ্গ থেকেও পর্যটকদের দল আগামীদিনে চুইখিমে আসবেন। এবং তার ফলে গ্রামীণ এলাকায় পর্যটন আরও বাড়বে।’ চুইখিমে প্যারাগ্লাইডিং চালু করার মূল উদ্যোক্তা চুইখিম ভিলেজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি হোম খাওয়াস। তিনি বলেন, ‘মোট চারজন প্রশিক্ষিত পাইলট আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে প্যারাগ্লাইডিংয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের এক-একটা ফ্লাইটের জন্য খরচও দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতোই রাখা হয়েছে। এতে একজনের জন্য তিন হাজার টাকা দিতে হবে।’ ফলে এতদিন ধরে যে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে কালিম্পংয়ের ডেলো-র একাধিপত্য ছিল, তাতে ভাগ বসাতে এবার তালিকায় নাম লেখাল চুইখিমও।
