উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় (Chorebagan tragedy) মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর এবার আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল পুলিশ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় পুজো উদ্যোক্তাদের কাঁধে চাপিয়ে গিরিশ পার্ক থানায় (Girish park police station) স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে পুজো কমিটির কর্তাদের পাশাপাশি অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করে ইতিমধ্যেই পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই শীর্ষকর্তা সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ সহ বিস্তীর্ণ চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায় আগামী তিনদিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। লালবাজারের এই নির্দেশিকার জেরে কলেজ স্ট্রিট, কলুতলা এবং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের একাধিক পয়েন্টে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
শনিবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় শহরজুড়ে প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনা বজায় ছিল। দুপুরের পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেও দর্শনার্থীদের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সন্ধ্যার দিকে ফের বৃষ্টির জেরে বহু মানুষ আশ্রয় নিতে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ভিড় জমায়। আর সেই সময়ই পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, বড় বিপদের আঁচ পেয়ে দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেই মাইক থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছিল পুজো কমিটি। মণ্ডপের ভেতর আটকে পড়া ভিড় এবং বাইরে থেকে নতুন করে ঢোকার উপচে পড়া স্রোত সামাল দিতে মাইকে বারবার ঘোষণা করা হয়েছিল যে প্যান্ডেলের অবস্থা ভালো নয় এবং তা ভেঙে পড়তে পারে, তাই দর্শনার্থীরা যেন দ্রুত বেরিয়ে আসেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি এবং সেই সতর্কবার্তার ঠিক পরেই ঘটে যায় ভয়াবহ সেই বিপর্যয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চোরবাগান মণ্ডপের প্রবেশপথের ঠিক পরেই রয়েছে একটি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর, যেখান দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দর্শনার্থীদের বাইরে বের হতে হতো। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই নির্দিষ্ট করিডোর চত্বরেই চরম হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ময়নাতদন্তের যাবতীয় প্রক্রিয়া আইনি বিধি মেনে সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবারই নিহতদের নিথর দেহগুলি তাদের শোকার্ত পরিবারবর্গের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুজোর আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে এমন এক শোকাচ্ছন্ন অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায় গোটা রাজ্যজুড়ে (West bengal information) গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।

