মনজুর আলম, চোপড়া: প্রায় ১০ বছর ধরে স্থায়ী চিকিৎসক নেই চোপড়া (Chopra) ব্লকের লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে। মাঝেমধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক চিকিৎসক আসতেন। কিন্তু গত কয়েক মাস হল তিনিও আর আসছেন না। ফলে বর্তমানে শুধু ফার্মাসিস্টের ভরসাতেই চলছে এই সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। লক্ষ্মীপুরে ভোটের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুরবস্থা।
এখানে মাসকয়েক আগেও সপ্তাহে এক-দু’দিন ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন চিকিৎসককে অস্থায়ী ভিত্তিতে পাঠানো হত। তবে বর্তমানে সেটাও বন্ধ। এখন ১ জন ফার্মাসিস্ট, ১ জন নার্স ও ১ জন গ্রুপ-ডি স্টাফকেই সব কাজ সামলাতে হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী আসেন। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় ফার্মাসিস্টকেই রোগী দেখা থেকে শুরু করে ওষুধ দেওয়ার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বহু মানুষকে বাধ্য হয়ে দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর ও চুটিয়াখোর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজার হাজার মানুষ এই সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এখানে কেবল আউটডোর পরিষেবাই রয়েছে। এলাকার অনেকেই বলছেন, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য এই সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বছরের পর বছর চিকিৎসকশূন্য। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ নিয়ে কাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাসিবুর রহমান বলছেন, ‘এত বড় সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকতেও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। সামান্য অসুখ হলেও অন্যত্র যেতে হচ্ছে।’ নুরজাহান বেগম পায়ের সমস্যা নিয়ে মঙ্গলবার ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বললেন, ‘কোনওকিছু হলেই এখানে আসি। অথচ স্থায়ী চিকিৎসক কেন আসছেন না বলতে পারছি না।’
সমস্যা যে আছে, তা মেনে নিয়েছেন প্রধানও। লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাবানা পারভিন বলছেন, ‘প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন স্থায়ী চিকিৎসক নেই। এতে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরে অনেকবার জানানো হয়েছে।’
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গির আলম বলছেন, ‘স্থানীয় চিকিৎসকের বিষয়টি বিধায়কের নজরে আনা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি।’ তবে এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান বলছেন, ‘চিকিৎসের বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে কোনও গুরুতর সমস্যা হলে রোগীদের দলুয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইসলামপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও টাকা, দুটোই বেশি লাগছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মহম্মদ সইফুদ্দিন মণ্ডলের কথায়, ‘চিকিৎসক না থাকায় আমাকেই সব সামলাতে হচ্ছে। রোগীর চাপ অনেক। বছরের পর বছর এভাবেই পরিষেবা চালু রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিএমওএইচ রণজিৎ সাহা অবশ্য বলছেন, ‘ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধীনে ৫ জন চিকিৎসক পাওয়ার কথা। তার মধ্যে লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক আসার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার সমস্যা মিটে যাবে।’
