শতাব্দী সাহা,চ্যাংরাবান্ধা: সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় সরকারি প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কুচলীবাড়ির যুবক সুকান্ত রায় (৩০)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যমদূত হয়ে এল একটি বালি বোঝাই পিকআপ ভ্যান। বৃহস্পতিবার মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোটবাড়ি কৃষক বাজার এলাকায় ঘাতক ভ্যানের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল টোটো, প্রাণ গেল সুকান্তর।
দুর্ঘটনার বিভীষিকা: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ রায় জানান, রাস্তার পাশেই মাঠে কাজ করার সময় তিনি দেখেন একটি টোটো দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় চ্যাংরাবান্ধার দিক থেকে মেখলিগঞ্জগামী একটি বালি বোঝাই পিকআপ ভ্যান অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আসার সময় আচমকা সেটির পেছনের চাকা খুলে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটি উল্টে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে টোটোটিতে।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, টোটোটি পুরোপুরি দুমড়ে যায় এবং রাস্তা রক্তে ভেসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সুকান্ত রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। টোটো চালক অমলেশ রায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে জলপাইগুড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
শোকাতুর পরিবার ও বন্ধুদের হাহাকার
সুকান্ত রায়ের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। সুকান্তর বন্ধু সৌম্য শুভ্র রায় বলেন,” কোথা থেকে কি হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। বাড়িতে ওর বয়ষ্ক মা বাবা, স্ত্রী ও ছোট শিশু কন্যা রয়েছে।যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন করার জন্য চ্যাংরাবান্ধায় অবস্থিত মেখলিগঞ্জ বিডিও অফিসে যাচ্ছিল ও। দুর্ঘটনায় ওর মাথা সহ শরীরের অন্যান্য জায়গায় চোট লাগে। এভাবে অকালে চলে যাবে ভাবতেই পারছি না। এখন ওর পরিবারের কি হবে?”
পুলিশের তৎপরতা ও তদন্ত
দুর্ঘটনার জেরে মেখলিগঞ্জ-চ্যাংরাবান্ধা রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে রাস্তা পরিষ্কার করেন।
মেখলিগঞ্জের এসডিপিও (SDPO) আশীষ পি সুব্বা বলেন,”মৃতদেহ শুক্রবার মাথাভাঙ্গায় ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের পক্ষ থেকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করা হয়েছে,পিকআপ চালকের এখনও খোঁজ চলছে।”
