নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। পরের বার থেকে প্রশ্নফাঁসের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে মোদি সরকার। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকাকে একেবারে নিশ্ছিদ্র করে ফেলা হয়েছে। প্রশ্ন তৈরি থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
কী কী পদক্ষেপ করা হবে প্রশ্ন ফাঁস রুখতে? কেন্দ্র জানিয়েছে, একাধিক স্তরে থাকছে কড়া নিরাপত্তা। যে গাড়িতে করে প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে থাকবে জিপিএস। ফলে গাড়ির গতিবিধি নজরে রাখা সম্ভব। এছাড়াও প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকবেন একাধিক মডারেটর। চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রে কী কী প্রশ্ন থাকবে, সেটা কোনও মডারেটরই জানবেন না। দিনকয়েক আগেই শোনা গিয়েছিল, এনটিএ-র সদর দপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়-সহ বিভিন্ন জায়গায় ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে চলেছে এনটিএ। এর জন্য সাড়ে সাত কোটি টাকার দরপত্র ডাকা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট পালটা জানিয়েছে, নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাধাকৃষ্ণন কমিটির বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। পরিকাঠামো বদল, নির্দিষ্ট টেস্টিং সেন্টারের ব্যবস্থা, প্রশ্ন তৈরির জন্য স্থায়ী কমিটি-সহ একাধিক সুপারিশও করেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ইউপিএসসি পরীক্ষা যেরকম নির্বিঘ্নে হয় সেই দেখে এনটিএর শিক্ষা নেওয়া উচিত।
যদিও সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে ইউপিএসসি নিয়েও। চলতি বছরের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় জেনারেল স্টাডিজের পেপার ওয়ানে আটটি প্রশ্ন ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ করে একদল প্রার্থী সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের (ক্যাট) দ্বারস্থ হয়েছেন। শুনানির পর ক্যাট-এর নয়াদিল্লি বেঞ্চ ইউপিএসসি-কে অফিসিয়াল নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কিছু প্রশ্নের উত্তর ভুল দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রশ্নে কোনও সঠিক বিকল্প ছিল না। কিছু প্রশ্ন নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
