সন্দীপন রায়, টরন্টো: লেক ওন্টারিওর তীরের এই শান্ত শহরে এখন এক অদ্ভুত উৎসবের আমেজ (Canada VS Morocco)। আগামীকাল ৪ জুলাই, সীমান্তের ওপারে যখন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন চলবে, তখন কানাডার প্রতিটি প্রান্তর মেতে উঠবে এক অন্য উন্মাদনায়। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার যে স্বপ্নীল অধ্যায় আলফনসো ডেভিসরা শুরু করেছেন, তার পরবর্তী পরীক্ষা টেক্সাসের হিউস্টনে। কিন্তু এই অনাবিল আনন্দের মাঝেও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটা চাপা আক্ষেপ কাজ করছে। সূচির অদ্ভুত মারপ্যাঁচে নিজেদের দেশের মাটি, বিশেষ করে ভ্যাঙ্কুভারের চেনা গ্যালারির গর্জন ছেড়ে কানাডাকে এখন পাড়ি দিতে হয়েছে প্রতিকূল এনআরজি স্টেডিয়ামে।
প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে শক্তিশালী মরক্কো, যারা গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। তাদের জমাট রক্ষণ আর বিদ্যুৎগতির প্রতি-আক্রমণ সামলানো কোচ জেসি মার্শের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। আচরাফ হাকিমি, ইসমায়েল সাইবারিদের আটকাতে রক্ষণে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল তুলতে হবে। মাঝমাঠে চোট পাওয়া ইসমায়েল কোনের শূন্যতা পূরণে এখন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা স্টিফেন ইউস্তাকিও। আর গোল তুলে নেওয়ার মূল দায়িত্ব সেই জোনাথন ডেভিড ও সাইলে লারিন।
হিউস্টনের প্রবল গরম আর আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা কানাডার জন্য বড় পরীক্ষা। ঘাম ঝরানো অনুশীলনের ফাঁকে ফুটবলাররা বারবার জল পান করে নিজেদের সতেজ রাখার চেষ্টা করছেন। মার্শ খুব ভালো করেই জানেন, নকআউটের মঞ্চে সামান্যতম ভুলও ক্ষমাহীন। ঘরের মাঠের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এক অচেনা রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কানাডা। তবে ফুটবল মানচিত্রে নিজেদের অস্তিত্ব আরও উজ্জ্বল করার এই লড়াইয়ে, গোটা দেশের অটুট সমর্থনই এখন ডেভিসদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

