নাগরাকাটা: চা বলয়ে ত্রাস হয়ে ওঠা চিতাবাঘের উপদ্রব থামছেই না। সোমবারের পর ফের শুক্রবার, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নাগরাকাটার কলাবাড়ি চা বাগানে খাঁচাবন্দি (Caged leopard) হল আরও একটি চিতাবাঘ। তবে স্বস্তির মাঝেই আতঙ্ক বাড়িয়ে সুলকাপাড়ার যমুনাবুড়ি মোড়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম হলেন ৫৫ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়া।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কলাবাড়ি চা বাগানের বাঁধ লাইন লাগোয়া ১৬ নম্বর সেকশন থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি হয়। গত জুন মাসের পর এই একটি বাগান থেকেই মোট ৭টি চিতাবাঘ ধরা পড়ল। বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথ জানান, চিতাবাঘটিকে বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর গোটা বাগানে ৮টি খাঁচার যে ‘চক্রব্যূহ’ তৈরি করা হয়েছিল, তাতেই এই সাফল্য মিলছে। তবে শ্রমিক সর্দার পিন্টু বরাইকের দাবি, বাগানে এখনও বেশ কিছু চিতাবাঘ রয়েছে, যা শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত নিজেদের চোখে দেখছেন।
অন্য একটি ঘটনায় এদিন বিকেলে সুলকাপাড়ার খয়েরবাড়ি এলাকার যমুনাবুড়ি মোড়ে মকলুবা মাঝি নামে এক মহিলা চিতাবাঘের হামলার শিকার হন। তিনি তাঁর ভাইবোনদের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাগানে চা গাছের ফুল তুলতে গিয়েছিলেন। সে সময় ঝোপে লুকিয়ে থাকা একটি চিতাবাঘ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভাইবোনদের চিৎকারে বুনোটি মকলুবাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মহিলার ঘাড়ে ও হাতে চিতার থাবার ক্ষত রয়েছে।
নাগরাকাটার এই অঞ্চলে গত দেড় বছর ধরে চিতাবাঘের তাণ্ডব চরমে পৌঁছেছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ৫ বছরের শিশু প্রতিকা কুজুরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বরাতজোরে বাঁচে শিশুটি। ১৬ সেপ্টেম্বর খেরকাটা গ্রামে চিতাবাঘের হামলায় প্রাণ হারায় নাবালক অস্মিত রায়। ২৭ অগাস্ট খুটাবাড়ি গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মহম্মদ করিমুল হক নামে এক নাবালককে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাড়ে ৩ বছরের শিশু আয়ুষ নাগার্চিকে উঠোন থেকে তুলে নিয়ে যায় চিতাবাঘ।
গত ৬ মাসে এই ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা থেকে মোট ১৪টি চিতাবাঘ ধরা পড়লেও যেভাবে একের পর এক প্রাণহানি ও হামলার ঘটনা ঘটছে, তাতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চা শ্রমিক পরিবারের।
