অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বাঘ আসার দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত। ২ অক্টোবর বক্সার (Buxa) জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তার আগে বাঘকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনের ভয় এবং নানা ভুল ধারণা কাটাতে গ্রামে গ্রামে সচেতনতার প্রচারে নামছে বন দপ্তর। বক্সা টাইগার রিজার্ভের অন্তর্গত প্রায় ৭২টি গ্রামে এই প্রচার চালানো হবে। সব জায়গায় গিয়ে বনকর্মীদের প্রচার চালানো একটু মুশকিল হবে জেনে সহযোগিতা নেওয়া হবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও।
বক্সায় বাঘ ফেরানোর আগে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। বাঘ আনার জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ খাঁচা। পাশাপাশি বাঘকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্যের মধ্যে কোনটি সঠিক, কোনটি নয়, সে বিষয়ে জোর দিচ্ছে বন দপ্তর। কারণ, বক্সায় স্থায়ীভাবে বাঘের বসবাস শুরু হলে জঙ্গল লাগোয়া বনবস্তির বাসিন্দাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
পরিবেশ বিষয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে শুক্রবার তাই একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয় আলিপুরদুয়ারে। এদিন ফিল্ড ডিরেক্টরের অফিসে বন দপ্তরের আয়োজিত বৈঠকে ছিলেন বক্সা টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর কুমার বিমল সহ অন্য বনকর্তারা। কীভাবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনতা প্রচার করা যাবে, তা নিয়ে এদিন একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়। আলিপুরদুয়ার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার প্রায় ১৫টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বক্সার এক বনকর্তা বলেন, ‘বাঘ ছাড়ার আগে সচেতনতার কাজ একটা বড় কর্মসূচি। সেটা প্রায় এক মাস ধরে চলবে। কীভাবে কী হবে, সেটা এরপরে আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।’
একসময় বাঘের বিচরণক্ষেত্র ছিল বক্সা। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেই পরিবেশ বদলে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পরিযায়ী বাঘের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। এবার স্থায়ীভাবে বাঘ এলে তার আচরণ, বাঘের সঙ্গে সহাবস্থান এবং নিরাপত্তা নিয়ে গ্রামবাসীদের আগে থেকেই সচেতন করতে চাইছে বন দপ্তর।
বনকর্তাদের দাবি, বাঘ নিয়ে সঠিক প্রচার না হলে গ্রামবাসীর মনের ভীতি যেমন কাটবে না। তেমনই আবার তাঁদের কাছে অনেক তথ্য অজানা থাকবে। তাই এই ধরনের প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের চেয়ারম্যান গৌর পাল বলেন, ‘বন দপ্তর সচেতনতার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা খুবই জরুরি। আমাদের তরফে যতটা সাহায্য করা যায়, সেটা করা হবে। অন্যরাও করবেন।’

