বহরমপুর: শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এসে শ্মশানঘাটেই খুন (Burning Ghat Homicide) হতে হল এক যুবককে! শীতের সন্ধ্যায় কোন পক্ষের দেহ আগে দাহ করা হবে, তা নিয়ে সামান্য বচসা থেকে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হল শ্মশান চত্বর। বাঁশ দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে জয়ন্ত ঘোষ নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক পক্ষের বিরুদ্ধে। রবিবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুরের একটি শ্মশানঘাটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জনৈক এক প্রতিবেশীর দেহ সৎকার করতে শ্মশানঘাটে এসেছিলেন জয়ন্ত ও তাঁর আত্মীয়রা। সেই সময় শ্মশানে অন্য একটি পক্ষও দাহ করতে এসেছিল। আগে কে দাহ করবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন অন্য পক্ষটি আচমকা বাঁশ নিয়ে জয়ন্তদের ওপর চড়াও হয়। অন্ধকারের মধ্যে জয়ন্তর মাথায় বাঁশ দিয়ে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় জয়ন্তকে বাঁচাতে গেলে তাঁর আরও দুই বন্ধু আক্রান্ত হন। তাঁদেরও বাঁশ দিয়ে নির্মমভাবে মারা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে ওই দুই যুবক গুরুতর জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জয়ন্তর এক আত্মীয় কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীর দেহ সৎকার করতে এসে আমাদের বাড়ির ছেলেকে অকারণে প্রাণ দিতে হলো! শ্মশানের মতো জায়গায় যারা এই নিকৃষ্ট কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
এই ঘটনায় গোটা বহরমপুর শহরে শোকের পাশাপাশি ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সৎকার করতে এসে এমন বীভৎস পরিণতির কথা ভেবে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষও।
