অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: অঙ্ক না পারায় ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বুনিয়াদপুরের (Buniadpur) এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে বংশীহারী থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বুনিয়াদপুর পুর এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন এক শিক্ষক। ক্লাস চলাকালীন এলাকার আদিবাসী ছাত্রাবাস থেকে আসা চার ছাত্রছাত্রী অঙ্ক না পারায় ওই শিক্ষক মেজাজ হারিয়ে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ। স্কুল শেষে চার ছাত্রছাত্রী ফিরে আসে ছাত্রাবাসে। রাতে ব্যথা অনুভব করায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের ওষুধ দেওয়া হয়।
নিয়মমতো প্রতি রবিবার অভিভাবকরা ছাত্রাবাসে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। চার ছাত্রছাত্রী গত শুক্রবারের স্কুলের ঘটনা অভিভাবকদের খুলে বলতেই ক্ষোভ ছড়ায়। অন্য অভিভাবকরাও আতিঙ্কত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় রবিবারই প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন ছাত্রাবাসে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের বুঝিয়ে সোমবার অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে স্কুলে সভা ডাকেন প্রধান শিক্ষক।
সোমবার স্কুলে সভা চলাকালীন স্কুল চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষককে দেখে দু’-একজন অভিভাবক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় আনে। কয়েকজন অভিভাবক ছাত্রাবাসে ফিরে এসে ক্ষোভে তাঁদের ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে যান।
অভিভাবক মেনকা বাস্কে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘শিশুরা স্কুলে আসে শেখার জন্য, ভয় পাওয়ার জন্য নয়। শিক্ষক যদি ছাত্রদের এভাবে মারধর করেন তবে শিশুদের মানসিক বিকাশ কীভাবে হবে। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করছি। আমরা থানায় অভিযোগ জানাব।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ঘটনার কথা অভিযুক্ত শিক্ষক স্বীকার করেছেন। বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি মিটিয়ে নিতে গেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষাবিদ অখিলচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। শিক্ষকের এই আচরণ কাম্য নয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর মানসিক নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক স্কুলে উত্তেজনা ছড়ানোর জেরে এক শিক্ষককে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
