নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: বামের পথেই কি হাঁটছে রাম? সিপিএমে দলের হোলটাইমারদের ভাতা দেওয়ার রীতি রয়েছে। তা বলে বিজেপির (BJP) নেতা-কর্মীদেরও দলের তরফে ভাতা দেওয়া হবে!
বিজেপিতে বুথ সভাপতি, শক্তি প্রমুখ, মণ্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে জেলা নেতৃত্ব, এমনকি বিধানসভার পর্যবেক্ষকদের মাসিক টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলের শীর্ষ নেতারা একে ভাতা বলছেন না। তাঁদের কথায়, ভোটের আগে এটা দলের কাজ চালাবার খরচ। তবে দলের অনেক নেতাই কিন্তু এই টাকাকে বেতন হিসাবেই দেখছেন। তা নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্নও উঠছে। আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে দলের পুরোনো নেতা, কর্মীদের অনেকের মধ্যে। অনেকে জানিয়েছেন, নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবে এমন নিষ্ঠাবান কর্মী এখন পাওয়া যাবে কোথায়? তাই টাকার টোপ।
দলীয় সূত্রে খবর, বুথ সভাপতিদের মাসে দেড় হাজার, শক্তি প্রমুখদের প্রায় পাঁচ হাজার এবং মণ্ডল সভাপতিদের প্রায় দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠাচ্ছে বিজেপি। বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত এই টাকা পাবেন তাঁরা।
বিজেপি নেতৃত্বর দাবি, এত বড় দল। তাই দলের নেতাদের খরচ বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভোটের আগে প্রচার থেকে শুরু করে দলের অন্যান্য কাজ করতে কেউ তো আর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করবেন না। তাই এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, ‘ভোটের খরচ হিসাবে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের মতো আমাদের দলও কিছু টাকা দেয়। তার মধ্যে বুথ পিছু খরচ ধরা থাকে। দলের পক্ষে নেতাদের আলাদা করে ব্যক্তিগত কাজের জন্য অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।’
গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসায় ৫৬ জনের বেশি বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। দলের তরফে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি করলেও অনেকে শেষমুহূর্ত পর্যন্ত দলকে পাশে পাননি বলে অভিযোগ। ফলে ধীরে ধীরে সেই কর্মীরা বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। এবার ভোটে সন্ত্রাস হলে নেতারা কতটা পাশে থাকবেন, সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই নীচু স্তরের নেতা, কর্মীদের অনেকে তুলছেন। আর এসব ভেবে অনেকেই গুটিয়ে যাচ্ছেন। এসব ভেবেই কি টাকার টোপ দিয়ে নেতাদের সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছে পদ্ম শিবির?
ঠিক কর্পোরেট ধাঁচেই যাঁর পদ যত বেশি উঁচু, তাঁকে তত বেশি টাকা দিচ্ছে বিজেপি। প্রত্যেক বিধানসভার জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক রয়েছেন। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার বিক্ষুদ্ধ নেতাদের কয়েকজনকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মাসে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এভাবে টাকা দিয়ে কাজ করালে আগামীদিনে নিঃস্বার্থ কাজ করার কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার আঠারোখাই মণ্ডলের সভাপতি সুভাষ ঘোষ মাসিক টাকা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘একে মাইনে বলাটা ঠিক নয়। ভোটের আগে খরচ তো দল দেবেই। এরসঙ্গে দলের প্রতি নিষ্ঠা, আনুগত্য এসব কিছু যুক্ত নয়।’
