ফালাকাটা: রাতের অন্ধকারে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বাইসন (Bison Assault)। এবার আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পারপাতলাখাওয়া গ্রামে বাইসনের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেন কৃষকরা। শনিবার রাতে জলদাপাড়া বনাঞ্চল (Jaldapara Nationwide Park) থেকে তিনটি বাইসন গ্রামে ঢুকে পড়ে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বন দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের ব্যাংডাকি বিটের জঙ্গল থেকে তিনটি বাইসন প্রথমে বংশীধরপুর গ্রামে ঢোকে এবং সেখান থেকে পারপাতলাখাওয়া গ্রামে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই এলাকায় কৃষকরা ভুট্টা, বেগুন ও আলুর চাষ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, বাইসনের দলটি কচি ভুট্টা গাছগুলিকে ঘাস মনে করে খেয়ে ফেলছে এবং আলু ও বেগুন খেত মাড়িয়ে তছনছ করে দিচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গোপাল সরকার আক্ষেপ করে বলেন, “প্রায় প্রতি রাতেই বাইসন গ্রামে ঢুকে পড়ছে। আমার ভুট্টা খেত পুরো নষ্ট করে দিয়েছে।” একই অবস্থা পরান সরকার ও জীবন সরকারেরও। তাঁদের কচু ও বেগুনের খেত সাবাড় করে দিয়েছে বাইসনের দলটি। কৃষকদের অভিযোগ, হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে তাঁরা দিশেহারা।
গ্রামবাসীদের দাবি, বন দপ্তরের সঠিক নজরদারি না থাকায় বাইসনগুলি অনায়াসেই গ্রামে ঢুকে পড়ছে। রাতের বেলা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেত পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের। যদিও জলদাপাড়া বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বনকর্মীরা প্রতি রাতেই এলাকায় নজরদারি চালান। বন্যপ্রাণীর হামলায় যাঁদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করলে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে ক্ষতিপূরণের চেয়েও গ্রামে বাইসনের প্রবেশ আটকানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন দপ্তরের কাছে।
