আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাটের (Rampurhat) সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী খুনের ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত রইল এলাকা। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধরের পাশাপাশি দিনভর রামপুরহাট-দুমকা রাস্তা অবরোধ করে রাখলেন স্থানীয়রা। আগুন ধরিয়ে চলে বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতির মাঝেই বিজেপি (BJP)-র বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিজেপির প্রতিনিধি দলের কাছে খুনের সিবিআই তদন্ত দাবি করেন। সেই সঙ্গে দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
২৮ অগাস্ট রামপুরহাট থানার একটি গ্রামের এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। স্কুলের এক শিক্ষক তাকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে খুন করে বলে অভিযোগ। এরপর তার দেহ তিন টুকরো করে সেচখালে ভাসিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীর দু-টুকরো দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনও কোমরের নীচের অংশ, দুটি পা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বুধবার রাতে দেহের অর্ধাংশ রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। এদিন সকাল থেকে আদিবাসীরা গ্রামের স্কুলের সামনে জমায়েত হতে থাকেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশকেও আক্রমণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে গাড়িতে চাপিয়ে রামপুরহাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা। তাঁরা পুলিশকে এলাকা ছাড়া করেন।
এই পরিস্থিতিতে মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী রশ্মি দে, শুভাশিস চৌধুরী। পরিবারের লোকজন বিজেপির প্রতিনিধি দলের কাছে খুনের সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। রামপুরহাট থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। ঘটনার প্রেক্ষিতে ধ্রুব সাহার বক্তব্য, ‘এই ঘটনা একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এর পিছনে হাত রয়েছে তৃণমূলের। সেই কারণে এদিন ছাত্রীর পরিবারের বাড়ি যাওয়ার সময় আমাদের বাধা দেয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। আমারা বাধা উপেক্ষা করে মৃতার বাড়ি পৌঁছাই। পরিবারের সদস্যরা আমাদের কাছে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে। সেই সঙ্গে মৃতদেহ ফরেন্সিক তদন্তের দাবি করেছে। আমরা তাদের দাবি সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানাব। এই খুনের পিছনে পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে। পুলিশ প্রথমদিকে তৎপর হলে মেয়েটিকে খুন হতে হত না।’
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ছাত্রীর দিদা বলেন, ‘আমাদেরকে প্লাস্টিকে জড়িয়ে মৃতদেহ দিয়েছে পুলিশ। শুধু কঙ্কাল। আমরা নাতনিকে চিনতে পারিনি। তার পায়ের অংশ পাইনি। পুলিশ ফরেন্সিক তদন্ত না করেই মৃতদেহ দিয়েছে। আমরা সিবিআই তদন্ত চাই। সেই সঙ্গে মৃতদেহ তুলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করাতে হবে। আমার নাতনিকে একা কেউ খুন করেনি। এর সঙ্গে আরও যারা যুক্ত রয়েছে তাদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে।’ ঘটনার তদন্তে পুলিশ।
