উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হামাসের হাতে অপহৃত নেপালি ছাত্র বিপিন জোশীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে হামাসের তরফে ২০ জন পণবন্দিদের নামের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় বিপিনের নাম ছিল না। সেই আবহেই এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর মৃত্যু সংবাদ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার সময় বিপিন জোশী অপহৃত হন। তিনি একটি ছাত্র বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইজরায়েলে কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ওই হামলায় বিপিন ছাড়াও আরও দশজন নেপালি ছাত্র নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বিপিনের অপহরণের পর থেকেই তাঁর পরিবার এবং নেপাল সরকার নিরলসভাবে তাঁর মুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
সূত্রের খবর, নেপালের রাষ্ট্রদূত ধনা প্রসাদ পণ্ডিত (Dhana Prasad Pandit) ইজরায়েল থেকে জানিয়েছেন, ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে নেপাল সরকারকে জোশীর মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছে। একই সময়ে তাঁর পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত পণ্ডিত বলেন, “আইডিএফ (IDF) ভিডিও কলের মাধ্যমে আমাদের নিশ্চিত করেছে যে, বিপিন জোশী আর বেঁচে নেই। তাঁর পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁর দেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও বলেন, “ইজরায়েলি বাহিনী আমাদের জানিয়েছে যে, হামাস এখনও কয়েকটি দেহ খুঁজে বের করতে পারেনি, তবে আমরা আশা করি জোশীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।” বর্তমানে বিপিন জোশীর দেহের অবস্থান অজানা থাকায় তাঁর দেহাবশেষ নেপালে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ধনা প্রসাদ পণ্ডিত।
বিগত দুই বছর ধরে বিপিনের মা পদ্মা এবং বোন পুষ্পা জোশী তাঁর মুক্তির দাবিতে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁরা ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাঁর মুক্তির জন্য আবেদন জানান। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ (Isaac Herzog) নিজেও বিপিন জোশীকে হামাসের বন্দিদশা থেকে মুক্তির জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে নেপাল সরকার এবং একাধিক উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত এই খবর তাঁর পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করল।
