উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যত ‘সেন্সরশিপ’ জারি করল বিহার সরকার (Bihar Authorities)। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে কেবল অ্যাকাউন্ট খুলতেই নয়, ব্যক্তিগত পোস্ট করার ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) মন্ত্রিসভার এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট নয়
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) প্রোফাইল খুলতে চান, তবে তাঁকে আগে বিভাগীয় প্রধান বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, ব্যক্তিগত পোস্টে নিজের পদের নাম, সরকারি লোগো বা প্রতীক ব্যবহার করা এখন থেকে নিষিদ্ধ। সরকারের যুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রশাসনের গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ।
কী পোস্ট করা যাবে না?
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি নীতি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য সমালোচনা করা যাবে না। উস্কানিমূলক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এমন কোনো বিষয় বা অশ্লীল কন্টেন্ট শেয়ার করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বৈঠক বা সংবেদনশীল ভিডিও ফাঁসের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলার বার্তা নাকি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা?
বিহার সরকারের দাবি, গত কয়েক বছরে সরকারি কর্মীদের বেফাঁস পোস্টের কারণে বহুবার প্রশাসনকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে, এমনকি বিঘ্নিত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলাও। সরকারের উদ্দেশ্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করা নয়, বরং ডিজিটাল জগতে একটি দায়বদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা। তবে নিয়ম অমান্য করলে বিভাগীয় তদন্ত থেকে শুরু করে চাকরি খোয়ানোর মতো চরম শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
