নিউজ ব্যুরো: শনিবার রাত থেকে অতিভারী বর্ষণের জেরে গোটা উত্তরবঙ্গজুড়েই তো ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। সেইসঙ্গে রবিবার দুপুরে ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মিটিওরলজি-এর তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তি আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।
কী রয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তিতে? তাতে বলা হয়েছে টালা হাইড্রোপাওয়ার বাঁধের গেট খোলা যাচ্ছে না। আর ওয়াংচু নদীর জল বাঁধের ওপর দিয়ে বইছে। যদি বৃষ্টি না কমে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। সেইসঙ্গে বাঁধ কর্তৃপক্ষের তরফে সতর্ক করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনকেও।
ভুটানের থিম্পুতে যে নদী ওয়াংচু নামে পরিচিত, সেটাই উত্তরবঙ্গে পরিচিত রায়ডাক নামে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে সেই নদী। যদি ওয়াংচুর জল ছাড়তে বাধ্য হয় টালা হাইড্রোপাওয়ার বাঁধ কর্তৃপক্ষ, তাহলে দু’কূল ছাপিয়ে বইবে রায়ডাক। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তা হবে গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো।
প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবেশী দেশের সেই সতর্কবার্তাকে কতখানি গুরুত্ব দিচ্ছে আলিপুরদুয়ারের প্রশাসন? আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক আর বিমলা বলেন, ‘প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর আমরা ভুটান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জেলায় বেশ কয়েকটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর আমরা নজর রেখে চলেছি।’
ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা তোর্ষা নদী এদিন সকালে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে জয়গাঁর ছোট মেচিয়াবস্তিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। জয়গাঁর উত্তরদিকে তোর্ষা ও পূর্বদিকে রয়েছে গোবরজ্যোতি নদী। দুটি নদীই ভুটান পাহাড়ের জলে পুষ্ট। সকালে তোর্ষার জল বাড়লেও গোবরজ্যোতির চেহারা ততটাও ভয়াবহ ছিল না। দুপুর ২টোর পর আর বৃষ্টি না হওয়ায় রাতের দিকে তোর্ষা নিয়েও আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। তবে যদি আবার ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে তোর্ষা লাগোয়া জয়গাঁর বাসিন্দাদের কি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে? এব্যাপারে জানতে চাইলে জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘এব্যাপারে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে কোনও নির্দেশিকা আসেনি।’
আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে এদিন রাতে জানানো হয়েছে, ভুটানের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার টালা বাঁধে এখন জল কমতে শুরু করেছে। তাও রায়ডাক নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। সেজন্য কুমারগ্রাম ব্লকের দুটি গ্রামে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
ভুটান পাহাড় বেয়ে নেমে আসা নদীগুলো যে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার দুঃখের কারণ, সেকথা নতুন কিছু নয়। এমন পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছেন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। তাঁর কথায়, ‘আমরা বারবার ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশনের দাবি করে যাচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এবিষয়ে নীরব।’
