উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র হতে চলেছে ভবানীপুর (Bhawanipur Meeting Election 2026)। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় শুভেন্দুকে মোকাবিলায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে নিজের ঘরের মাঠের কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্য স্থির করে দেওয়া হয়েছে— জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা, এবার নজর রেকর্ড মার্জিনে।
নন্দীগ্রামের ছায়া ও ‘লোডশেডিং’ আতঙ্ক
বৈঠকের মেজাজ ছিল সতর্ক ও আক্রমণাত্মক। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি মমতা। এদিনের সভা থেকে তিনি সরাসরি কর্মীদের স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়া (Robust Room Safety) এবং গণনাকেন্দ্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। মমতা বলেন, “মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। তবে মনে রাখবেন, নন্দীগ্রামের মতো লোডশেডিং বিভ্রাট যেন এখানে না ঘটে।” এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্মীদের নিশ্ছিদ্র পাহারার নির্দেশ দেন তিনি।
অভিষেকের ‘মিশন ফার্স্ট’
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “কলকাতার মধ্যে ভবানীপুরকে ফার্স্ট হতে হবে। গত উপনির্বাচনের ৫৮ হাজারের লিডকে ছাপিয়ে এবার অন্তত ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিততে হবে।” ২৩১টি বুথের প্রতিটিতে লিড নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীকে অন্তত ৫টি করে নতুন ভোট বাড়ানোর টার্গেট দিয়েছেন তিনি (Strategic Sales space Administration)।
উন্নয়ন বনাম লাইফস্টাইল: প্রচারের হাতিয়ার
রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রচারের সুরও বেঁধে দিয়েছেন অভিষেক। একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘লাইফস্টাইল’, অন্যদিকে দিদির সাধারণ জীবনযাপন ও উন্নয়ন এই পার্থক্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’কে হাতিয়ার করে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের দুয়ারে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলর ও বুথ কর্মীদের।
