Bhawaiya Pageant | ভাওয়াইয়ায় নামমাত্র বরাদ্দ, ৫০ লাখ থেকে নামল ১০ লাখে

Bhawaiya Pageant | ভাওয়াইয়ায় নামমাত্র বরাদ্দ, ৫০ লাখ থেকে নামল ১০ লাখে

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


গৌরহরি দাস, কোচবিহার: দক্ষিণবঙ্গে পিঠেপুলি সহ বিভিন্ন উৎসবের জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ করছে রাজ্য সরকার। অথচ উত্তরবঙ্গের মাটির মানুষের ভাবাবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ভাওয়াইয়া উৎসবের (Bhawaiya Pageant) বাজেট গতবারের তুলনায় এক ধাক্কায় ৪০ লক্ষ টাকা কমানো হয়েছে। প্রতিবারই যেখানে একটা জেলাকে ভেনু করে এই রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসব হয়, সেখানে এবার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি দুটি জেলাকে এই উৎসবের ভেনু করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এবার এই উৎসবের বাজেট বাড়ানোর কথা। কিন্তু বাড়ানো তো দূরের কথা, গতবার যেখানে রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসবের বাজেট ৫০ লক্ষ টাকা ছিল, সেখানে এবার তা কমিয়ে দুটো জেলার জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ গতবারের বাজেটের তুলনায় এক পঞ্চমাংশ। উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ভাওয়াইয়াকে নিয়ে রাজ্য সরকারের এমন বিমাতৃসুলভ আচরণে কোচবিহার সহ উত্তবঙ্গের প্রথিতযশা ভাওয়াইয়াশিল্পী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

ভাওয়াইয়া সংগীতে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী তথা কোচবিহারের মাথাভাঙ্গার পঁচাগড়ের বাসিন্দা গীতা রায়কে কোনওবারই ভাওয়াইয়া উৎসব কমিটিতে রাখা হয় না। তিনি বলেন, ‘ভাওয়াইয়া সংগীত হল আমাদের কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের মাটির মানুষের আসল পরিচিতি। এই সংগীতের সঙ্গে আমাদের আবেগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ্বের দরবারে উত্তরবঙ্গকে আলাদা করে পরিচিতি দিয়েছে এই সংগীত। সেই জায়গায় এই সংগীতকে বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিতে রাজ্য সরকার কোথায় রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসবের বাজেট বাড়াবে। কিন্তু তা না করে এত টাকা কমিয়ে রাজ্য সরকার আসলে উত্তরবঙ্গের মানুষকে অপমান করেছে। তাদের ভাবাবেগ নিয়ে খেলতে চেয়েছে। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তাঁর কথায়, ‘এর থেকে তো পাড়ার অনুষ্ঠানেও বাজেট বেশি হয়। তার থেকে বরং এই অনুষ্ঠান রাজ্য সরকার বন্ধ করে দিক। আমি ব্যক্তিগতভাবেও শিল্পীদের কাছে আবেদন করব, এই অপমানের জবাব দিতে তাঁরা যেন অনুষ্ঠান বয়কট করেন।’ একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন কোচবিহারে তো উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রয়েছেন। তিনি কী করছেন?

 বিশিষ্ট ভাওয়াইয়াশিল্পী নজরুল ইসলাম এবং নির্মল দাস দুজনেই রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসবের বাজেট কমে যাওয়ায় ব্যথিত। নির্মল বলেন, ‘এটা করে কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও ভাওয়াইয়া মনোভাবাপন্ন বিভিন্ন জনজাতির সাধারণ মানুষ যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ভাবাবেগে চরম আঘাত করা হল।’

প্রতিবার এই উৎসব মূলত গ্রাম-গঞ্জের মাটির মানুষদের আঙিনায় অর্থাৎ তুফানগঞ্জের বলরামপুর, গোসানিমারি সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বড় করে মঞ্চ বেঁধে মাইক বাজিয়ে দুই-তিনদিন ধরে করা হত। উত্তরবঙ্গের প্রাণের উৎসবের সঙ্গে গ্রামগঞ্জের মানুষ একেবারে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। এবার আগামী ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি সেই উৎসব হবে কোচবিহার শহরের রবীন্দ্র ভবনে। একইভাবে জলপাইগুড়ি জেলাতেও কোনও অডিটোরিয়ামে আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার কোচবিহারের জেলা শাসকের দপ্তরে ৩৭তম রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসব কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। বৈঠকে কমিটির চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মন, প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, জেলা শাসক রাজু মিশ্র, কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়, জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন, আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কোচবিহারের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়করা কেউ অবশ্য ছিলেন না। বৈঠক শেষে কমিটির চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসব এবার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি দুটি ভেনুতে হবে। কোচবিহারে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলা এবং জলপাইগুড়িতে জলপাইগুড়ি ছাড়া উত্তর দিনাজপুর ও দার্জিলিং এই তিন জেলা থাকবে। দুটি ভেনু থেকে উঠে আসা ছয়জন করে মোট ১২ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা কোচবিহারে হবে। উৎসবে দুই ভেনুর জন্য মোট বাজেট ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।’ গতবার এই বাজেট ৫০ লক্ষ টাকা ছিল বলে তিনি জানান।

বংশীবদন বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে এই কমিটিতে থাকা আর না থাকা সমান। এই সামান্য অর্থে এই অনুষ্ঠান কীভাবে হবে তা জেলা শাসক ও কমিটির চেয়ারম্যান বুঝবেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের প্রতি রাজ্য সরকার যে বরাবর বঞ্চনা করে আসছে এবং এখনও করছে তা এর থেকেই পরিষ্কার। এর জবাব মানুষ নির্বাচনে দেবেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *