শিলিগুড়ি: ’২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি (BJP) দাবি করেছিল, রাজ্যে এবার ভয় ‘আউট’ ভরসা ‘ইন’ হয়েছে। আর এবার নিজের বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ‘ভরসা’ অ্যাপের (Bharosa app) সূচনা করলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় (Shikha Chatterjee)।
বিধায়কের দাবি, ‘এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর কোনও অভাব-অভিযোগ নিয়ে বিধায়ক বা প্রশাসনের দরবারে ছুটতে হবে না। বরং নিজের স্মার্টফোন থেকেই সমস্যার কথা সরাসরি জানানো যাবে অ্যাপের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, জরুরি বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অ্যাপে থাকা বিশেষ অ্যালার্ম সিস্টেমের পরিষেবা পাবেন মহিলারা। যে কোনও ধরনের সমস্যায় পড়লে তঁারা অ্যাপটির মাধ্যমে ঘটনাস্থলের ছবি, লাইভ লোকেশন এবং যোগাযোগের নম্বর সহ সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠাতে পারবেন।’
শিখা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজ্য সমবায় দপ্তরের অধীনস্থ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কোঅপারেটিভ ইনফরমেশন টেকনলজি অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স রিসার্চ’ থেকেই এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার নাগরিকদের ডিজিটাল মাধ্যমে সুরক্ষা ও পরিষেবা দিতে খুব শীঘ্রই শিবির করে এই অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
রবিবার বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই অ্যাপ চালু করার কথা ঘোষণা করেন শিখা। বিধায়কের দাবি, উত্তরবঙ্গের কোনও বিধানসভায় এই প্রথম এধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিখা ছাড়াও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কোঅপারেটিভ ইনফরমেশন টেকনলজি অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স রিসার্চ’-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং চেয়ারম্যান অনির্বাণ সেন চৌধুরী। তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাপ তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
অনির্বাণ বলেন, ‘এই অ্যাপের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষ একগুচ্ছ নাগরিক সুবিধা পাবেন। একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে। এর মাধ্যমে যে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ স্থানীয় বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানানো যাবে। বিধায়কের কাছ থেকে কোনও সার্টিফিকেট প্রয়োজন হলে সেটার আবেদনও অ্যাপের মধ্য দিয়েই করা যাবে। কাগজ তৈরি হয়ে গেলে ই-সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন আবেদনকারী। মানুষ অভিযোগ জানালে তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিধায়ক বা বিডিও অফিস বা যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে যাবে।’
তিনিই জানালেন, অ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি। জরুরি বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মহিলারা যাতে দ্রুত সাহায্য পান, সেজন্য অ্যাপে একটি বিশেষ অ্যালার্ম সিস্টেম রাখা হয়েছে।
শিখার কথায়, ‘প্রযুক্তির সাহায্যে যে অভিযোগ আমার কাছে আসবে, সেগুলি নজরদারির জন্য নির্দিষ্ট টিম গঠন করা হবে। মণ্ডলভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। নারী সুরক্ষায় এই প্রযুক্তির ভীষণ প্রয়োজন ছিল।’

