সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা: সরকারি নিয়মে প্রবীণ ও অসুস্থদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ছবিটা যে কতটা করুণ, তা আবারও প্রমাণিত হল রাজগঞ্জে। ১৮/৯৪ নম্বর বুথের এক ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ এবং তাঁর ৮৩ বছরের স্ত্রীকে তীব্র শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে হাজিরা দিতে হল বিডিও অফিসের এসআইআর (SIR) হেয়ারিংয়ে। প্রশাসনের এই অমানবিকতায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে প্রবীণ দম্পতির পরিবার।
ঘটনাটি কী?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা দুজনেই বার্ধক্যজনিত কারণে অত্যন্ত অসুস্থ। পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ার পর থেকে তাঁরা ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। অভিযোগ, তাঁদের এই শারীরিক অবস্থার কথা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিএলও (BLO)-কে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন কর্ণপাত না করে তাঁদের সশরীরে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে টোটো ভাড়া করে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে পৌঁছান ওই অসহায় দম্পতি।
দায় কার? ধোঁয়াশায় প্রশাসন
এই অমানবিক চিত্র সামনে আসতেই রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের জয়েন্ট বিডিও সৌরভ কান্তি মণ্ডল সাফাই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,”বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ ফর্ম রয়েছে। সেটি জমা দিলে আমরা বাড়িতে গিয়েই হেয়ারিং করি। কিন্তু বিএলও যদি আমাদের এই বিষয়ে কোনও তথ্য না দিয়ে থাকেন, তবে আমাদের কিছু করার থাকে না।”
প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়ে!
পরিবারের অভিযোগ, পরিবারের অন্য কোনও সক্ষম সদস্যকে না ডেকে কেন শুধুমাত্র এই চলচ্ছক্তিহীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেই ডাকা হল? নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের দুয়ারে গিয়ে পরিষেবা দিতে হবে। কিন্তু রাজগঞ্জের এই ঘটনা প্রমাণ করল, নিচুতলার কর্মীদের গাফিলতিতে সেই নির্দেশ কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষদের প্রশাসনিক গাফিলতির খেসারত কেন দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে রাজগঞ্জের সাধারণ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
