BDO Prashant Barman | পুলিশের ‘দয়ায়’ জামিন বিডিও’র 

BDO Prashant Barman | পুলিশের ‘দয়ায়’ জামিন বিডিও’র 

শিক্ষা
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যাকাণ্ডে (Gold dealer homicide case) মূল অভিযুক্ত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের (Rajganj) বিডিও প্রশান্ত বর্মন (BDO Prashant Barman) আগাম জামিন পাওয়ায় কাঠগড়ায় পুলিশ। মামলার রায়ে স্পষ্টভাবেই পুলিশের ভূমিকার কথা জানিেয়ছেন উত্তর ২৪ পরগনার দায়রা বিচারক শান্তনু ঝাঁ। রায়ে বলা হয়েছে, মামলার কেস ডায়েরি (সিডি)-তে প্রশান্তর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং প্রচুর তথ্য থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বা গ্রেপ্তার করার কোনও চেষ্টাই করেনি পুলিশ। আর তা থেকেই আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তের জন্য প্রশান্তকে হেপাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই শর্তসাপেক্ষে বিডিও’র আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। আইনজীবীরা বলছেন, সল্টলেকের মতো এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ই প্রশান্তর জামিনের রাস্তা পরিষ্কার করেছে। তাহলে কি পরিকল্পনা করেই প্রশান্তকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ? আইনজীবী মহলে এখন চর্চায় সেই প্রশ্নই।

তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও, অভিযোগপত্রে নাম থাকা একমাত্র অভিযুক্তকে কেন পুলিশ ন্যূনতম জিজ্ঞাসাবাদও করল না সেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের অনেকেই। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) আইনজীবী সন্দীপ মণ্ডলের কথা, ‘গোটা প্রক্রিয়াতে এটা স্পষ্ট যে, পুলিশ প্রভাবশালী বিডিও-কে বাঁচাতে চাইছে। তদন্ত যে সঠিকভাবে হয়নি সেকথা মামলার রায়েই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। খুনের প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সিডিতে প্রচুর তথ্য থাকার পরেও তাঁর গ্রেপ্তার না হওয়া এবং জামিন পেয়ে যাওয়ার নজির নেই। আমরা হতবাক।’

প্রশান্তর ক্ষেত্রে পুলিশের দ্বৈত ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। একদিকে সিডিতে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, প্রশান্তর বিরুদ্ধে প্রচুর তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, অথচ তাঁকে আজ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। মামলার অভিযোগপত্রে নাম নেই এমন চারজনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে প্রশান্তর যোগসূত্রও মিলেছে। তারপরও বিডিও-কে না ছোঁয়ায় তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আইনজীবীদের একাংশের ধারণা, মূল অভিযুক্ত জামিন পাওয়ায় ধৃত অন্য অভিযুক্তদের জামিনের পথও সুগম হল। এত প্রশ্ন উঠলেও তদন্তকারী বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা বিষয়গুলি নিয়ে কোনও কথাই বলতে চাননি। মামলার অভিযোগকারী দেবাশিস কামিল্যার বক্তব্য, ‘আদালতে যা বলার সবটাই পুলিশ বলেছে। তাঁদের আইনজীবীরাই যা করার করেছেন। এখন তাঁদেরই হাইকোর্টে যাওয়া উচিত। আমাদের হাইকোর্টে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। আমরা চাই বিডিও-কে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হোক।’ তবে প্রশান্তর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ হাইকোর্টে যাবে কি না তারও কোনও উত্তর মেলেনি। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মহলে প্রশান্তর জামিন নিয়ে দিনভর চর্চা হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর বিরোধিতা সত্ত্বেও খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্তের জামিন পাওয়া নিয়ে শিলিগুড়ি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি সহ বিভিন্ন আদালত চত্বরে আইনজীবীরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে এতসবের পর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ হাইকোর্টে আবেদন না জানালে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই ওঠা প্রশ্ন আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একটা বড় অংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *