উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গণপিটুনি, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের (Mob Violence) ওপর হামলার ঘটনায় (Baruipur Incident) পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে ওই গোলমালের ঘটনায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০।
গত রবিবার নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বারুইপুরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। অভিযোগ, এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে রেল ও রাস্তা অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বুধবার ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত আরও ২২ জনকে জালে তোলা হয়। ধৃতদের আজ বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তর্জা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, এলাকায় তাণ্ডব চালানো এবং গণপিটুনির ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা গোলমালের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন। সামগ্রিক ঘটনায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের জেরা করে এই তাণ্ডবের নেপথ্যে থাকা বাকি উস্কানিদাতাদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় পুলিশি টহল জারি রয়েছে।

