Bardhaman | ‘জি.রাম.জি’ প্রকল্পে পারফরম্যান্স খারাপ, বদলির কোপে পূর্ব বর্ধমানের ৩ নির্মাণ সহায়ক

শিক্ষা
Spread the love


বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজ(125 Days Work) চালুর কথা ঘোষণা করেন। সেই মতোই বিকশিত ভারত ’জি.রাম.জি’ প্রকল্পে বঙ্গের গ্রামীণ পরিবারগুলিকে ১২৫ দিন কাজ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে প্রকল্পের কাজে ব্যর্থতার দায়ে বদলির কোপে পড়লেন পূর্ব বর্ধমান (Bardhaman) জেলার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনজন নির্মাণ সহায়ক। গত ১৯ আগষ্ট জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল এই বদলির নির্দেশ জারি করার পর থেকেই অবশ্য তটস্থ জেলার পঞ্চায়েত কর্মী মহল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,’বদলির কোপে পড়া বর্ধমান উত্তর মহকুমার তিন নির্মান সহায়ক হলেন সুদেব কর্মকার,তরণী কুমার মিশ্র এবং রেজাউল কাদের চৌধুরী। এঁদের মধ্যে সুদেব আউসগ্রাম ২ নম্বর পঞ্চায়েত (Panchayat) সমিতি অধীন রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্মাণ সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন। তরণী ছিলেন বর্ধমান ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি অধীন কুড়মুন ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক। আর রেজাউল গলসি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি অধীন সাঁকো গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্মান সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন।

কোনও কারন দর্শানো না থাকলেও এই তিন নির্মাণ সহায়ককে কোথায় কোথায় বদলি করা হল তা নির্দেশ পত্রে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেলাশাসক। সেই নির্দেশ পত্র অনুযায়ী, সুদেব কর্মকারকে বদলি করা হয়েছে পূর্বস্থলী ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি অধীন দোগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। তরণী কুমার মিশ্রকে কেতু্রাম ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অধীন সীতাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বদলি করা হয়েছে। আর রেজাউল কাদের চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে কালনা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অধীন কাঁকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। ২১ আগষ্ট বিকেলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা বদলির নির্দেশ পত্রে উল্লেখ করেদেন জেলাশাসক। সেই নির্দেশ মেনে তাঁরা ইতিমধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

তবে এই বদলির প্রকৃত কারণ কি তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কোন কর্তাই মুখ খুলতে চাননি। এমনকি জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালকে ফোন করে এই বিষয়ে জানতে যাওয়া হলে তিনিও কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

যদিও কিছু পঞ্চায়েত কর্মী সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ আগস্ট বর্ধমান উত্তর মহকুমার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক। বিকশিত ভারত জি.রাম.জি প্রকল্পের কাজ নিয়ে হওয়া সেই বৈঠকে জেলাশাসকের ক্ষোভের মুখে পড়েন সুদেব কর্মকার,তরণী কুমার মিশ্র ও রেজাউল কাদের চৌধুরী নামে তিন নির্মাণ সহায়ক।

এই বিষয়ে তরণী মিশ্রকে ফোন করা হলে তিনি কোনও রাকঢাক না রেখেই বলেন, ‘বিকশিত ভারত জি.রাম.জি প্রকল্পের কাজে আমার পারফরমেন্স খারাপ ছিল। সেই কারণেই আমার পানিশমেন্ট বদলি হয়েছে।’  সুদেব কর্মকারকে ফোন করা হলে তিনিও বলন, ‘বিকশিত ভারত জি.রাম.জি প্রকল্পের কাজে আমি ভালো পারফর্মেন্স দেখাতে পারেননি। তাই আমাকেও বদলি হতে হয়েছে।’ তবে বদলি হওয়া অপর নির্মাণ সহায়ক রেজাউল কাদের চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *