উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। এবার এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ এবং গাছে বেঁধে চুল কেটে নেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা সামনে এল। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়। এই ঘটনায় জড়িত দুই অভিযুক্ত শাহিন ও হাসানকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই ৪০ বছর বয়সী হিন্দু বিধবা নারী কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে থাকতেন। প্রায় আড়াই বছর আগে অভিযুক্ত শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি একটি দোতলা বাড়ি এবং ৩ ডেসিমেল জমি কিনেছিলেন। অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই শাহিন ওই মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিত এবং নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত।
গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলার বাড়িতে তাঁর গ্রামের দুই আত্মীয় বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় শাহিন ও তার সহযোগী হাসান জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গণধর্ষণ করে। এরপর তারা মহিলার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলেও অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুষ্কৃতীরা ওই মহিলার আত্মীয়দের মারধর করে বাড়ি থেকে বার করে দিয়ে তাঁকে বাড়ির উঠোনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয় বলে অভিযোগ।
ভিডিও ভাইরাল ও নির্যাতন:
নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়। অভিযুক্তরা পুরো ঘটনার ভিডিও তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। অকথ্য নির্যাতনের কারণে ওই মহিলা একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথমে ভয়ে ওই মহিলা ডাক্তারদের কিছু জানাননি। পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশি পদক্ষেপ:
নির্যাতিতা মহিলা কালীগঞ্জ থানায় শাহিন ও হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীকে থানায় ডেকে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা:
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে হিন্দুদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারই শরিয়তপুর জেলায় খোকন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস এবং ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডল নামে দুই হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঝিনাইদহের এই ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
