উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর ‘পরিকল্পিত নিপীড়ন’ বা পদ্ধতিগত অত্যাচারের যে গুরুতর অভিযোগ ভারত তুলেছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিল বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকার দাবি, গত কয়েক মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার যে ঘটনাগুলো সামনে এসেছে, তা কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক বা পরিকল্পিত নয়, বরং সেগুলি নিছকই ‘বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা’ (Remoted Incidents of Felony Acts)।
সম্প্রতি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন চলছে। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmoy Krishna Das) গ্রেপ্তার, একের পর এক মন্দির ভাঙচুর এবং হিন্দু দোকানপাটে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে দিল্লি জানিয়েছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
ভারতের এই কড়া বার্তার পরই রবিবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (Touhid Hossain) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, ভারতের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কোনো ধর্মীয় নিপীড়ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা। যখন কোনো অপরাধী চুরি বা ডাকাতি করে, সে ভুক্তভোগীর ধর্ম দেখে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ভুক্তভোগী যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের হন, তবে সেটিকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হচ্ছে।”
তৌহিদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাগুলিকে অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। তাঁর দাবি, ছোটখাটো অপরাধমূলক ঘটনাকে বড় করে দেখিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হচ্ছে এবং সরকার সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ ক্রমশ বেড়েছে। বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের পর ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরেছে। ভারতের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যার ফলে হিন্দুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তবে ঢাকা এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতী অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাকে ভারত ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ হিসেবে দেখছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ঢাকার এই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’র তত্ত্ব ভারতের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে না। ভারত চাইছে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও দোষীদের শাস্তি, সেখানে ঢাকা বিষয়টিকে ‘সাধারণ অপরাধ’ বলে লঘু করার চেষ্টা করায় আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জটিলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
