উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের (garment staff) বিক্ষোভে (Bangladesh garment staff protest) উত্তাল ঢাকা! ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকায় (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার টাকা) উন্নীত করার দাবিতে রবিবার রাজধানী ঢাকা (Dhaka) ও শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ অবরুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি গাজীপুরে মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থিত একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকায় পাঁচ প্লাটুন জওয়ান মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শ্রমিকেরা অবস্থান করায় স্থানীয় মেট্রো স্টেশনগুলোর গেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
পোশাক শিল্পে এই ব্যাপক অসন্তোষ ও অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে নতুন একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এক সাংবাদিক বৈঠকে শ্রমিকদের শান্ত হয়ে রাজপথ ছেড়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমান ন্যূনতম মজুরির মেয়াদ আগামী মাসে উত্তীর্ণ হতে চলায় এবং দেশের প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত কারখানার চার মিলিয়নেরও বেশি শ্রমিকের রুটি-রুজির কথা মাথায় রেখেই এই নতুন বোর্ড গঠন করা হলো। চীন ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮.৭০ বিলিয়ন ডলারে।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত এই নতুন বোর্ডে কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি ছাড়াও একজন স্বাধীন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বিজিবিএমইএ-র পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। পাশাপাশি, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহউদ্দিন আহমেদকে স্বাধীন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে এই পদক্ষেপ নেওয়ার পর শ্রমিকেরা দ্রুত রাস্তা ছেড়ে কারখানায় ফিরে যাবেন বলে আশা প্রশাসনের।

