উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে ভোটের দামামা বাজতেই শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল ‘জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম’-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে চলেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি (BNP)। মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আসন সমঝোতা ও নির্বাচনি নির্ঘণ্ট: মির্জা ফখরুল জানান, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ৪টি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। এই আসনগুলি হলো— সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নীলফামারী-১ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪। সমঝোতা অনুযায়ী:
সিলেট-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ।
নীলফামারী-১ আসনে লড়বেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা: আওয়ামী লিগ বর্তমানে ‘নিষিদ্ধ’ এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপটে অনুপস্থিত থাকায় এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে কট্টরপন্থী ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ এবং জুলাই গণ-আন্দোলনের ছাত্র নেতাদের নবগঠিত দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)।
ভোটের কৌশলী চাল: রাজনৈতিক মহলের মতে, জামাত এবং এনসিপি—উভয় দলের সঙ্গেই অন্তর্বর্তী সরকারের এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ভোটের পর জামাত-এনসিপি জোট গড়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা রুখতেই আগাম তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। সেই লক্ষ্যেই জমিয়তের মতো ইসলামপন্থী এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত ‘হেফাজতে ইসলাম’-এর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিরা।
সিদ্ধান্তের তাৎপর্য: বিএনপির এই পদক্ষেপ মূলত ডানপন্থী এবং ইসলামি ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে সংহত করার একটি কৌশল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আমরা সমমনা দলগুলোকে নিয়ে এগোতে চাই।”
এই জোটের ঘোষণা নির্বাচনের আগে মাঠের রাজনীতিতে বিএনপিকে কতটা সুবিধাজনক অবস্থায় রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
