বালুরঘাট: একদিকে বছর বছর দুর্গাপুজোর জন্য পুজো উদ্যোক্তা ক্লাবগুলির অনুদান বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের থেকে চাঁদাও মিলছে। ফলে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ থেকে শুরু করে প্রতিমা, জাঁকজমক সবই বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় পুরোহিতদের পারিশ্রমিক বা দক্ষিণা বাড়ছে না। ফলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের পুরোহিতদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিজেদের এলাকায় তেমন দক্ষিণা না মেলায় জেলার পুরোহিতরা রায়গঞ্জ, মালদা এমনকি শিলিগুড়িতে কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। পুরোহিতদের দাবি, উদ্যোক্তারা বড় মাপের প্যান্ডেল করে, প্রতিমা এনে পুজোয় মেতে উঠছেন। কিন্তু সকলের মঙ্গলকামনায় সারাদিন উপোস থেকে পুজো করা পুরোহিতদের টাকা দেওয়ার সময় হাতে টান পড়ছে বলে আক্ষেপ করেন। তাঁদের মতে, বর্তমানে আধ্যাত্মিকতার তুলনায় জাঁকজমক ও পুরস্কার নেওয়াটাই যেন বড় হয়ে যাচ্ছে।
বালুরঘাটের নামাবঙ্গীর পুরোহিত দেবেন্দ্রনাথ মৈত্র প্রায় ৪০ বছর ধরে পুজো করে আসছেন। তিনি বললেন, ‘পুজো উদ্যোক্তারা মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজেট বাড়াচ্ছেন। কিন্তু আমাদের দক্ষিণা সেই হারে বাড়ছে না। এখন বাজারে সব জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এদিকে, যাঁরা পুজো করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁদের পক্ষে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে উঠেছে। আমরা দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়েই সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি। তাই আমাদের অনুরোধ পুজো উদ্যোক্তারা যেন আমাদের দক্ষিণার ক্ষেত্রেও বাজেট বাড়ান।’ এর মধ্যে আবার পুজোর উপকরণ সাজানো থেকে শুরু করে সহকারীদের টাকাও তাঁদের দিতে হয় বলে জানালেন দেবেন্দ্রনাথ।
দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় দেড় হাজার পুরোহিত রয়েছেন। যাঁরা দুর্গাপুজো, কালীপুজো সহ একাধিক পুজো করেন। অনেক আচার অনুষ্ঠান মেনে দীর্ঘ সময় ধরে পুজো করতে হয়। সরকারের তরফে এবছর পুজো উদ্যোক্তাদের অনুদান ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ দশ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণা বাড়ানো হয়নি। এর ফলে পুজোর আবহের মধ্যেও পুরোহিতদের গলায় মন খারাপের সুর। অন্যদিকে, এনিয়ে সুর চড়িয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের পুরোহিত কল্যাণ সমিতিও। সমিতির জেলা সম্পাদক প্রদীপ ভাদুড়ি বলেন, ‘চারদিকে জাঁকজমক করে পুজো হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তারা বিভিন্ন খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। কিন্তু আমাদের দক্ষিণা সেই অনুপাতে মেলে না। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দু’-তিন হাজার টাকার মধ্যেও পুজো সারতে হয়। যেহেতু আমাদের দক্ষিণার কোনও নির্দিষ্টতা নেই। তাই পুজো উদ্যোক্তারা তাদের আর্থিক অবস্থা জানিয়ে যে যেমন পারে সেভাবেই আমাদের দেয়। মণ্ডপ, আলো, প্রতিমায় অর্থ খরচের সঙ্গে আমাদের দিকটিও দেখা হোক, সেটাই চাই।’ আবার অনেকের মতে, প্যান্ডেল বা প্রতিমা ভালো হলে পুরস্কার পাওয়া যায়। তাই সেদিকেই সকলের নজর। আর তার ফলে পুজোর দিকটি অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
