বালুরঘাট: কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এক সাজাপ্রাপ্ত বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু (Balurghat Jail Dying Case) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে সংশোধনাগারের সেলের ভেতর থেকেই ওই বন্দির ঝুলন্ত দেহ (Prisoner Dying) উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বন্দির নাম উৎপল মণ্ডল (৪৩)। তাঁর আদি বাড়ি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। ২০১৮ সালে একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। সেই থেকেই সে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের সেলেই ব্যাগের ফিতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় তাকে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই বালুরঘাট থানার পুলিশ (Balurghat Police) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। জেলের ভেতরে থাকাকালীন ওই বন্দি কোথা থেকে এবং কীভাবে ওই ফিতে পেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।
বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট দেবাশিস মণ্ডল জানান, “মৃত বন্দি উৎপল মণ্ডল বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর নিয়মিত চিকিৎসাও চলছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নজরদারিতে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সংশোধনাগারের মতো একটি অতি-সুরক্ষিত স্থানে দিনের আলোয় এই ধরণের ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে জেল কর্তৃপক্ষ। জেলের অন্যান্য বন্দি ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
