বালুরঘাট: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মাধ্যমিকের (Madhyamik Examination 2026) শেষ দিন। পরীক্ষা শেষ হতেই একরাশ স্বস্তি আর আনন্দের বদলে দেখা গেল ধ্বংসের ছবি (Balurghat Faculty Vandalism)। বুধবার জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই বালুরঘাটের আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠ ও নামাবঙ্গী হাইস্কুলে পরীক্ষার্থীদের একাংশের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল স্কুলের সরকারি সম্পত্তির। ফ্যান থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক বোর্ড এবং পানীয় জলের পাইপ— বাদ গেল না কিছুই।
এই স্কুলে আসন পড়েছিল রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুল ও বেলতলা পার্ক তারণচন্দ্র হাইস্কুলের প্রায় ৩৪ জন ছাত্রের। পরীক্ষা চলাকালীনই শিক্ষিকারা লক্ষ্য করেন, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের তিনটি সিলিং ফ্যান বেঁকে ভেঙে ঝুলছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা পম্পা দাস বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, নামাবঙ্গী হাইস্কুলে রিস্তারা হাইস্কুল, মালঞ্চা হাইস্কুল, আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠ ও জিএলপি বিদ্যাচক্রের ৩১৭ জন পরীক্ষার্থীর আসন ছিল। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, ছেলেদের বাথরুমের জলের পাইপ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ জল অপচয় হয়। স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ রবীন্দ্রনাথ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখন মিস্ত্রি ডেকে এগুলো মেরামত করতে হবে।”
মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার শেষে ছাত্রছাত্রীদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে মর্মাহত শিক্ষক মহল। তাঁদের বার্তা— মুক্তির আনন্দ নিশ্চয়ই থাকবে, কিন্তু তাতে যেন সামাজিক দায়িত্ববোধ হারিয়ে না যায়।
