Balurghat | বেহাল বনলতা পার্ক: ১০ টাকার টিকিটে শুধুই ‘ধুলো মাখা’ খেলনা! বালুরঘাটে ধুঁকছে শিশুদের শৈশব

Balurghat | বেহাল বনলতা পার্ক: ১০ টাকার টিকিটে শুধুই ‘ধুলো মাখা’ খেলনা! বালুরঘাটে ধুঁকছে শিশুদের শৈশব

শিক্ষা
Spread the love


এ বনলতা, বনলতা সেন নয়। পার্ক। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতার নামে নাম হলে কী হবে, বালুরঘাটের বনলতা পার্কের এখন বেহাল দশা। মুখে নয়, তার সর্বাঙ্গেই যেন শ্রাবস্তীর এবড়োখেবড়ো কারুকার্য। খোঁজ নিল উত্তরবঙ্গ সংবাদ

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে বালুরঘাট (Balurghat) পুরসভার অধীন সৃজনী এলাকার বনলতা পার্ক। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যত ধুঁকছে শহরের অন্যতম জনপ্রিয় এই উদ্যান। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে তৈরি টয়ট্রেন থেকে শুরু করে শিশুদের বিভিন্ন খেলনার অবস্থা শোচনীয়। অথচ পার্কে (Bonalata Park Balurghat) ঢুকতে জনপ্রতি ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে শহরবাসীকে, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। যদিও শীঘ্রই উদ্যান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

শহরে বিনোদন ও ঘোরার জায়গা তুলনামূলকভাবে এমনিতেই কম। তাই শহরের নিরিবিলি জায়গায় বনলতা পার্ক দীর্ঘদিন ধরেই বালুরঘাটবাসীর কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। বিশেষ করে বিকেলের দিকে আগে শিশুদের যথেষ্ট ভিড় চোখে পড়ত এই পার্কে। কিন্তু বর্তমানে খেলনার অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে খুদেদের। এমনকি আগে পার্কে পাঁচ টাকা প্রবেশমূল্য থাকলেও পরে সেটা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরিষেবার মান বৃদ্ধির পরিবর্তে উলটে উত্তরোত্তর কমছে বলেই অভিযোগ। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে পার্কের টয়ট্রেনটি। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই টয়ট্রেনটি ছিল শিশুদের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে টয়ট্রেনটির। ট্রেনলাইনের নীচে কাঠের পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। বর্তমানে পার্কের ভেতরে তৈরি ছোট স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে টয়ট্রেনটি। ধুলোর মোটা আস্তরণে ঢেকে গিয়েছে ট্রেনের কাচ ও বগিগুলি। এখন সেই ট্রেনের দিকে তাকিয়ে শিশুদের মন খারাপ করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

শুধু টয়ট্রেন (Toy Prepare) নয়, পার্কের অন্যান্য বিনোদনের সরঞ্জামের অবস্থাও একইরকম। খেলনা হাঁসের ডাক রাইড ভেঙে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। যা আগে গোল গোল করে ঘুরে শিশুদের মনোরঞ্জন দিত। শিশুদের জন্য তৈরি স্লিপারের সিঁড়ি ভাঙা থাকায় সেখানে ওঠাও বন্ধ হয়েছে। বোটিংয়ের জন্য তৈরি পুকুরের উপরের লোহার রেলিংয়ে মরচে ধরেছে। বহুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বোটিং পরিষেবাও।

অভিভাবক নীলিমা কর্মকার বলেন, ‘আগে ছেলেকে নিয়ে পার্কে এলে টয়ট্রেনে চড়ে পুরো পার্ক ঘুরে আনন্দ করত। এখন ও না বুঝেই ট্রেনে ওঠার বায়না করে। কিন্তু চালু না থাকায় মন খারাপ করে বসে থাকে। শিশুদের কথা মাথায় রেখে টয়ট্রেনটি দ্রুত চালু করা উচিত।’ খিদিরপুর এলাকার বাসিন্দা অতনু দাসের অভিযোগ, ‘পুরসভা পার্কে ঢুকতে দিব্যি ১০ টাকা গুনে নিচ্ছে। কিন্তু পরিষেবা দেওয়ার বেলায় এই অবস্থা। বালুরঘাটে এমনিতেই শিশুদের মনোরঞ্জনের জায়গা কম। বনলতা পার্কে সব নষ্ট হয়ে থাকায় শিশুরাই যেন বঞ্চিত।’

এবিষয়ে বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা দু’একদিনের মধ্যেই ওই পার্কে পরিদর্শনে যাব। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। কী কী খারাপ হয়ে রয়েছে এবং কী কাজ করলে সুন্দর করা যাবে উদ্যানটিকে, সেগুলির যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।’ পুরসভার তরফে পরিদর্শনের পরে পার্কের পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস বাস্তবের মাটিতে কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বালুরঘাটবাসী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *