পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বালুরঘাট (Balurghat) শহরের বাইপাস রাস্তাটি কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হবার জো হয়ে উঠেছে। জনবহুল ওই রাস্তায় নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় মানুষজনকে। এমন অবস্থায় শহরজুড়ে ছিছি রব উঠে গিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বালুরঘাট পুরসভা এক অভিনব উদ্যোগ নিল। সাধারণ মানুষকে রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত রাখতে শিল্পকে অস্ত্র করল পুর কর্তৃপক্ষ। পুরসভার তরফে শহরে আবর্জনা জমছে এমন ১৫টি এলাকা গারবেজ ভালনারেবল পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর রাস্তার ধারে বিভিন্ন দেওয়াল ছবিতে রাঙিয়ে তোলার ব্যবস্থা করল। বালুরঘাটের তিন তরুণ চিত্রশিল্পী সৈকত ঘোষ, মৃন্ময় মণ্ডল ও সিদ্ধার্থ দাসরা জেলার মোখাশিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিত্রের মাধ্যমে শহরের সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন।
এদিকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে বালুরঘাট পুরসভা। এজন্য শহরের সব বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট গাড়ি প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে। যেখানে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাপারে একাধিকবার সচেতনতার প্রচার চালানোর পরেও কিছু অসচেতন নাগরিক রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলছেন। এতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনার পাহাড় তৈরি হচ্ছে। ওই এলাকাগুলিতে আলাদা করে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করলেও তা যেন চোখেই পড়ছে না ওই অসচেতন নাগরিকদের।
পুরসভার তরফে শহরে যে ১৫টি এলাকা গারবেজ ভালনারেবল পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি সাড়ে তিন নম্বর এলাকা। যেখানে সিপিএমের জেলা কার্যালয়ের সামনে জমা আবর্জনায় পথচলতি মানুষজনের অস্বস্তি বেড়েই চলছিল। তাই পাশে একটি প্রাচীরে জেলার জিআই ট্যাগ পাওয়া মোখাশিল্পকে ছবির আকারে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে ফুটে উঠেছে দুর্গার প্রতিচ্ছবি। পুরসভার এমন উদ্যোগের ফলে শহরবাসীকে আবর্জনার ব্যাপারে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদেরও পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
চিত্রশিল্পী সৈকত ঘোষ বলেন, ‘ওই এলাকায় আবর্জনা জমতে জমতে ক্রমশ ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছিল। মানুষ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। প্রায় ২০০ স্কোয়ার ফুট দেওয়াল ছবিতে রাঙিয়ে তুলেছি। পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা কাজ চলেছে। আগামীতে একাধিক এলাকায় এমন দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম দেখবেন শহরবাসী। এতে মানুষজন যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলতে ইতস্তত বোধ করবেন।’
চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, ‘রাস্তার পাশে জমা আবর্জনা তুলে নেওয়ার পরেও আবার সেখানে আবর্জনা জমছে। আমরা সেইসব এলাকা গারবেজ ভালনারেবল পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করছি। ওয়েস্ট টু আর্ট কাম বিউটিফিকেশন প্রকল্পের মাধ্যমে শহর সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থা করছি। এরপরেও আবর্জনা ফেললে জরিমানার পথে হাঁটা হবে। গারবেজ ফ্রি সিটির দিকে হাঁটছি আমরা। এর রেটিং যত ভালো হবে তত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে সরকারি অনুদান পাওয়া যাবে।’
