উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান (Balochistan) প্রদেশ। শনিবার থেকে চলা দফায় দফায় বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ১৪৩ জন বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন বহু সেনা জওয়ান ও সাধারণ নাগরিকও। এই রক্তাক্ত লড়াইয়ের মাঝে সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো দুই তরুণী আত্মঘাতী হামলাকারীর উপস্থিতি, যাদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দায় স্বীকার করেছে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) (BLA)।
আসিফা ও মজিদ ব্রিগেডের ‘নারী শক্তি’
বিএলএ-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নুশকিতে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন ২৪ বছর বয়সি আসিফা মেঙ্গল। মাত্র ২১ বছর বয়সে বিএলএ-র আত্মঘাতী শাখা ‘মজিদ ব্রিগেড’-এ যোগ দিয়েছিল সে। দ্বিতীয় এক তরুণীর ভিডিও-ও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে হাতে বন্দুক নিয়ে হাসিমুখে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “পাক সরকার সরাসরি আমাদের মোকাবিলা করতে পারে না, তাই আমাদের মা-বোনেদের ওপর জোর খাটায়। এবার আমাদের জাগার সময় এসেছে।”
উত্তাল বালোচিস্তান ও সেনার অভিযান
কোয়েটা, নুশকি, মস্টাং, গদরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জেরে পাক সরকার চরম অস্বস্তিতে। পাক সেনার পক্ষ থেকে ৪০ ঘণ্টার এক ম্যারাথন অভিযান চালিয়ে ১৪৩ জন বিদ্রোহীকে খতম করার দাবি করা হলেও, স্থানীয় সূত্রে খবর— এই অভিযানের আড়ালে সাধারণ নাগরিকদের ওপরও ব্যাপক অত্যাচার চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এবারের হামলায় মহিলারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
ভারত যোগের অভিযোগ ও দিল্লির জবাব
বরাবরের মতো এবারও বালোচিস্তানে অশান্তির জন্য ‘বিদেশি শক্তি’ তথা ভারতকে দায়ী করেছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। তাদের দাবি, ভারতের মদতেই তারা মাথাচাড়া দিচ্ছে। তবে রবিবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, দোষারোপ না করে পাকিস্তানের উচিত বালোচিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও দাবিগুলো মেটানোর দিকে নজর দেওয়া। সব মিলিয়ে বালোচিস্তানের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদ্রোহীদের হামলা এবং সেনার পাল্টা আক্রমণে রক্তগঙ্গা বইছে এই পার্বত্য প্রদেশে।
