উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাতজন সদস্যকে বন্দি করার দাবি করল বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Military)। এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট শর্ত রেখেছে তারা। বিএলএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে পাকিস্তান সরকারকে বন্দি বিনিময়ের (Prisoner Change) আলোচনায় বসতে হবে। অন্যথায়, ওই সাত নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিএলএ-র মিডিয়া উইং ‘হাক্কাল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিশেষ অভিযান “অপারেশন হেরফ”-এর (Operation Herof) দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ১৭ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তরা মূলত জাতিগতভাবে বেলুচ ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। বিএলএ-র দাবি, স্থানীয় পরিচয় এবং বেলুচ জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাকি সাতজন নিয়মিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে তাঁরা বিএলএ-র হেফাজতে রয়েছেন। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তাদের তথাকথিত ‘বেলুচ ন্যাশনাল কোর্ট’-এ এই সেনাদের বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। বন্দি সেনাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর নির্যাতন, সাধারণ মানুষকে গুম করা এবং বেলুচ জনগণের ওপর ‘গণহত্যার’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, শুনানির সময় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেও, পাকিস্তান সরকারকে আলোচনার জন্য সাত দিনের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা সময়সীমা দিয়েছে বিএলএ। তাদের শর্ত হলো, পাকিস্তান সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে থাকা বেলুচ বন্দিদের মুক্তি দেয়, তবে বিনিময়ে এই সাত সেনা সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পাকিস্তান সরকার তা গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।
