Baishnabnagar | সংসারের ফাঁকে সাফল্যের ঘুঁটে, বৈষ্ণবনগরের গৃহিণীদের হাত ধরেই স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতি

Baishnabnagar | সংসারের ফাঁকে সাফল্যের ঘুঁটে, বৈষ্ণবনগরের গৃহিণীদের হাত ধরেই স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


এম আনওয়ারউল হক, বৈষ্ণবনগর: রোদ উঠতেই বৈষ্ণবনগরের (Baishnabnagar) উঠোনে উঠোনে শুরু হয় এক নিঃশব্দ কর্মযজ্ঞ। কেউ গোবর দিয়ে ঘুঁটের মণ্ড বানাচ্ছেন, কেউ সেই মণ্ড বাঁশের মাচায় সারি দিয়ে রাখছেন শুকানোর জন্য। বাইরে থেকে দেখলে এ যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা ছবি। অথচ এই চেনা ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত নারীর আত্মনির্ভরতার এক অনন্য গল্প। কোনও সরকারি প্রকল্প নয়, নেই কোনও এনজিও’র সাহায্য। নিজের হাত, সময় আর পরিশ্রমকে পুঁজি করেই গৃহিণীরা গড়ে তুলেছেন এক প্রাচীন অথচ কার্যকর গ্রামীণ অর্থনীতি।

কালিয়াচক–৩ ব্লকের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোরু রয়েছে। দু-চারটে গোরু থাকলেই শুরু করা যায় এই কাজ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ঘুঁটে তৈরির এই প্রথা আজও সমানভাবে জীবন্ত। নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা এই কাজ করে সংসারের হাল ধরছেন নীরবে। বৈষ্ণবনগর ঘোষপাড়ার কাকলি ঘোষ বলেন, ‘সংসারের কাজের ফাঁকেই ঘুঁটে বানানো যায়। এতে আলাদা কোনও খরচ নেই, অথচ হাতখরচ উঠে যায়।’ এই কাজ শুধু আয় নয়, আত্মবিশ্বাসও জোগায়। কলেজ পড়ুয়া তথা গৃহবধূ তনুশ্রী ঘোষের কথায়, ‘পড়াশোনা, সংসার, গোপালন—সব সামলে প্রতিদিন অন্তত ৩০টি ঘুঁটে বানাই। রোদে শুকিয়ে ১৫ দিন বা মাসে একবার ভ্যানওয়ালাদের কাছে বিক্রি করি। মাসে প্রায় ১,৮০০ টাকা পাই। এই টাকাটা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ভ্যানচালকরা এই ঘুঁটে সংগ্রহ করেন। তারপর তা চলে যায় ব্লকের বাইরে, এমনকি ভিনজেলাতেও। সাধারণ বা মাঝারি ঘুঁটে ২ টাকা পিস বিক্রি হয়। পাটখড়ি দিয়ে তৈরি বড় ঘুঁটে চারটি ১০ টাকায়, ছোট ঘুঁটে ৩৫ টাকা পণ (৮০ টায় ১ পণ) দরে বিক্রি হয়।

এই ঘুঁটে শুধু আয়ের উৎস নয়—সারাবছরের জ্বালানিও। ফলে কাঠের ওপর নির্ভরতা কমে, গাছ কাটা কমে, পরিবেশও রক্ষা পায়। ঘুঁটে পোড়ানোর পর যে ছাই পাওয়া যায়, সেটিও উৎকৃষ্ট জৈব সার।

কালিয়াচক–৩ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হজরত শেখ বলেন, ‘ঘুঁটে একটি উৎকৃষ্ট জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব সম্পদ। ব্লকের শত শত মহিলা এর মাধ্যমে বাড়তি আয় করছেন। এটিকে যদি কুটিরশিল্পের আওতায় আনা যায়, তাহলে এই মহিলাদের জীবন আরও বদলাতে পারে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *